পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শুক্রবার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া সফরের কারণে একটি শক্তিশালী দেশ ‘ক্ষুব্ধ’ হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনার মধ্যে দুই দিনের সফর নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে।
তবে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা সংলাপে তিনি তার বক্তব্যে ওই দেশের নাম বলেননি।
ইমরান খান ওই দেশের নাম উল্লেখ না করে আরো বলেন, তাদের মিত্র ভারত এমন সময়ে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে যখন পশ্চিমারা ইউক্রেনের আক্রমণের পর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
তিনি বলেন, আজ আমি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিবের বিবৃতি পড়লাম যে তারা ভারতকে কিছু বলতে পারে না, কারণ এর একটি স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি রয়েছে। তাহলে আমরা কী?
তিনি বলেন, দোষ পাকিস্তানের। কোনো দেশকে সম্মান করা যায় না যতক্ষণ না সে নিজের দুই পায়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, একটি জাতির জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার সংকট তৈরি হয় যখন সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত ধনী নাগরিকদের ছোট দ্বীপ সুবিধাবঞ্চিতরা ঘিরে থাকে। কিন্তু যে দেশে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধি’ নেই সে দেশ সব সময়ই নিরাপত্তাহীন থাকবে।
‘রিয়াসত-ই-মদীনা’র ধারণা অনেকে বুঝতে পারছেন না জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ইমরান খান বলেন, ‘তারা মনে করে আমি রিয়াসাত-ই-মদিনার কথা বলি ভোট পেতে এবং ইসলামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে’।
মদীনা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে একটি ‘অনন্য’ মডেল হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, যেখানে জনগণ একটি মহান সভ্যতায় পরিণত হয়েছিল। এটি ইতিহাসের একটি অংশ, পৌরাণিক কাহিনি নয়। এ মডেলটি জাতীয় নিরাপত্তার উদাহরণ।
ইমরান বলেন, তারা প্রমাণ করেছে যে যখন একটি জাতি তার দুর্বলতম লোকদের যত্ন নেয়, সেটাই প্রকৃত নিরাপত্তা...। নিরাপত্তা তখন নিশ্চিত হয়, যখন প্রতিটি নাগরিক তার দেশের মালিক হয়। সামরিক বাহিনী আপনাকে শুধু সীমিত নিরাপত্তা দিতে পারে।
ক্রিকেটে বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এ পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘অসম উন্নয়ন পাকিস্তানের নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে বড় কারণ। একটি ছোট অভিজাত শ্রেণি আমাদের সম্পদ দখল করে আছে এবং এর কারণে সাফল্য আসেনি’।
তিনি আরো বলেন, এ অভিজাতরা ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাব্যবস্থাও চালু করেছে, যার অর্থ হলো ভালো চাকরি শুধু সেই ভাষায় যারা কথা বলতে পারবে তারা পাবে। এটি স্বাস্থ্য ও বিচার ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলেছিল, যেখানে কেবল ধনীদেরই সহযোগিতা করা হয়।
ইমরান পাকিস্তানে আইনের শাসনের অনুপস্থিতিকে দেশটির নিরাপত্তাহীনতার কারণ হিসেবেও অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এটি (আইনের শাসন) ছাড়া কোনো দেশ সত্যিকার অর্থে অগ্রগতি বা তার সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারে না। আমি এমন একটি রাষ্ট্রের অংশ হতে চাই যে আমাকে ন্যায়বিচার দেয়, যেখানে আমার অধিকার, জীবন এবং সম্পত্তি সুরক্ষিত হয়।
ইমরান বলেন, আল্লাহ আমাদের যে সম্ভাবনা দিয়েছেন তা আবিষ্কার করার জন্য আমরা মাথা ঘামাইনি। একজন ব্যক্তি তার প্রকৃত সম্ভাবনায় পৌঁছায় যখন সে প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়। যখন একটি জাতি ভাবতে শুরু করে যে আমরা সাহায্য ছাড়া কিছু অর্জন করতে পারি না, তখন তারা সফল হতে পারে না। একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি একটি জাতির অগ্রগতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
আফগানিস্তানের ‘জিহাদে’ পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার উদাহরণ দিয়ে ইমরান খান বলেন, পাকিস্তান তার অংশগ্রহণের মাধ্যমে কী হারিয়েছে এবং কী অর্জন করেছে তা কখনই মূল্যায়ন করেনি। আমরা কখনই মূল্যায়ন করিনি যে আমরা আফগান জনগণকে সাহায্য করার জন্য জড়িত হয়েছি নাকি এটি বিদেশি সাহায্য পাওয়ার জন্য। এতে পাকিস্তানের ক্ষতি যে বিদেশি সাহায্য দেওয়া হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি।
তিনি আরো বলেন, ৯/১১’র পর পাকিস্তান বিদেশি দখলদারির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করে একে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছে। আমরা আমাদের নিজস্ব নীতি লঙ্ঘন করেছি। আমরা অন্যের সুবিধার জন্য আমাদের নিজের দেশকে উৎসর্গ করেছি [...]। সে জন্য আমি বিশ্বাস করি যে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ছাড়া একটি দেশ বিশ্বে সম্মান পায় না এবং তার জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে না’।
তিনি আরো বলেন, পিটিআই সরকারের উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির খসড়া তৈরি করা এবং দেশকে একটি নির্দিষ্ট শিবিরের অংশ হওয়া থেকে বিরত রাখা। আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে স্বাধীন রাখার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, পাকিস্তানকে গত প্রায় তিন বছর যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক সম্মান দেওয়া হয়েছিল তা আগে কখনো হয়নি।