বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্র’র প্রযোজনা সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত ‘পরানের গহীন ভিতর’ শীর্ষক আবৃত্তি সন্ধ্যা । অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একডেমির জাতীয় সংগীত, নৃত্যকলা ও আবৃত্তি মিলনায়তনে বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টায় একক ও দলগত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেন মোস্তাফিজ রিপন। আবৃত্তি সন্ধ্যায় ১৬ জন বাচিকশিল্পী কবিতা পাঠ করেন।
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে নির্দেশক মোস্তাফিজ রিপন বলেন, সৈয়দ শামসুল হক লোকজ শব্দের এক খলবলে নদীর তীরে যেন আমাদের ছেড়ে দেন। আমরা একটি একটি করে শব্দের-শিউলি তুলে নিয়ে আবিষ্কার করি বাংলা সাহিত্যের এক অনুপম সম্ভার- পরানের গহীন ভিতর।
স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্রের আহ্বায়ক কমিটির প্রধান শাহীদুল হক মিল্কী প্রযোজনাটি সম্পর্কে বলেন, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের এক অনন্যসাধারণ সৃষ্টি ‘পরানের গহীন ভিতর’ কাব্যগ্রন্থ। দীর্ঘ সময় অনুশীলন শেষে স্বরকল্পনের আবৃত্তিশিল্পীরা এই প্রযোজনাটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় মঞ্চায়ন করেছে।
স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্রের সদস্য এবং প্রযোজনাটির সমন্বয়ক সোহেল আহমেদ বলেন, আমরা একঝাঁক তরুণ হৃদয় শুক্রবার সন্ধ্যায় মিলিত হই প্রাণের উচ্ছ্বাসে। ‘পরাণের গহীন ভিতর’ সৈয়দ শামসুল হকের এমন এক অনবদ্য সৃষ্টি, যেখানে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়বৃত্তির বহিঃপ্রকাশ তুলে ধরেছেন অত্যন্ত সুদক্ষতার সঙ্গে।
স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্রের প্রাক্তন নির্বাহী সদস্য মো. রাশেদুর রহমান বলেন, অতিমারির ভয়াল আগ্রাসনের চলমান পরিস্থিতির মধ্যে অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এই অনুষ্ঠানটি আমাদের সমৃদ্ধ প্রযোজনা।
আবৃত্তিচক্রের এ প্রযোজনায় অংশ নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ ও তরুণ আবৃত্তিশিল্পী। প্রযোজনায় অংশগ্রহণ করেন জনি মুহাম্মদ নুর উদ্দিন, আশরাফি জাহান মিতু, আনতারা রহমান প্রীতি, মনোয়ার হোসেন, বর্ণালী সরকার, তৃষা খন্দকার, শহীদুল হক মিল্কী, মুনতাহাব মুনিয়া, সোহেল আহমেদ, রিফাত আরা ইসলাম, খুরশিদা ইয়াসমিন, মাজেদা পারভীন বকুল, হাবিবুল্লাহ জোয়াদ্দার, আরিফ আনোয়ার ও দেওয়ান সুমাইয়া সুলতানা আশা।
মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন জাহিদুর রহমান। আবহ সংগীতে মাহফুজ হৃদয়, মোবারক হোসাইন ও সজীব বাউল। এছাড়াও আলোক প্রক্ষেপণে ছিলেন কমল কান্তি সরকার, আরিফ আনোয়ার, মো. ইলিয়াস আকন্দ অপি ও কাজী সিনহা এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণে তৌয়ব।