ঘরোয়া ক্রিকেটে দেশের সেরা লিগ চলছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নেই, তবে তারকাদেরও অভাব নেই। শুধু দেশি তারকাই নন, আছেন বিদেশি নামি ক্রিকেটাররাও। অথচ টেলিভিশনে তাদের খেলা দেখার সুযোগ নেই ক্রিকেটপ্রেমীদের। শুধু তাই নয়, ডিআরএস-রিভিউ, রিপ্লে কিছুই দেখার সুযোগ নেই। ডিআরএস খুবই ব্যয়বহুল প্রযুক্তি, তবে নিজেদের উদ্যোগে রিপ্লে দেখার ব্যবস্থা রাখতে পারত বিসিবি। তাতে লিগের মান বাড়ত, আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ত ও সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হতো। এসব দিকে উন্নতির আশা করছেন অন্যতম সেরা দেশীয় কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে শীর্ষে তুলে আনা এই কোচের দাবি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মান উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।
সালাউদ্দিনের চোখে এবার আম্পায়ারিং ভালো হচ্ছে। গতবারের মতো ভুল সিদ্ধান্তের ছড়াছড়ি নেই। তবুও দুটো ঘটনা সামনে এসেছে গত কয়েক দিনে। একটি খেলাঘরের বিপক্ষে আবাহনী ম্যাচে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করা মাসুদুর রহমান মুকুলকে দেখা গেছে বোলার-ফিল্ডারের আবেদন ছাড়াই এলবিডব্লিউ আউট দিয়ে দিয়েছেন ব্যাটসম্যানকে। আবার বুধবার প্রাইম ব্যাংকের শাহাদাত হোসেন দিপুকে ছক্কা মারার পরও আউট দেওয়া হয়েছে। তার শটে বাউন্ডারি লাইনে থাকা ফিল্ডার সুজন হাওলাদার বলটি তালুবন্দি করেন। ততক্ষণে তিনি বাউন্ডারির বাইরে। ফেসবুকে থাকা একটি রিপ্লেতে দেখা গেল বাইরে থেকে বল আবার ছুড়ে বাউন্ডারির ভেতরে ঢুকে তালুবন্দি করেন বল। তা পরে ফিল্ডারের কাছে জিজ্ঞেস করে আউট দেন ফিল্ড আম্পায়ার। ওই ঘটনায় মাঠেই প্রতিবাদ করেছিলেন প্রাইম ব্যাংক কোচ সালাউদ্দিন। তবে এখন ব্যাপারটিকে অতীত বলে আর সামনে টানতে চাইছেন না, ‘ছেলেটার (ফিল্ডার) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যেহেতু সে বুঝতে পারেনি তো তাকে দোষ দেওয়া যাবে না। বুঝলে হয়ত সে তখন বলত। এখন যেটা হয়ে গেছে তা নিয়ে বলে লাভ নেই। সামনে যেন এমন কিছু না হয় তাকে সেই পরামর্শ দেব।’
তাই বলে লিগের মান নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না অভিজ্ঞ এই কোচ। বিপিএলের মতো এই লিগেও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার চান তিনি। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট এখন যে পর্যায়ে আছে এখন আমাদের এগুলো (রিভিউ, রিপ্লে, ডিআরএস) যোগ করা জরুরি। আমরা যদি সামনে এগিয়ে যেতে চাই তাহলে এই জিনিসগুলো লাগবে। আমাদের বোর্ড অনেক ধনী। আমি মনে করি তারা এগুলো লিগে নিয়ে আসতে পারবে এবং উচিত। এটা দেশের সবচেয়ে বড় লিগ। এখানে সব সুবিধা থাকাটা দরকারঅ এতে এমন ক্রাইসিসে পড়তে হবে না। এতে বিসিবির সুনাম থাকবে এবং আমাদের লিগের মানটাও বাড়বে।’