যশোরে হাসপাতালের লিফটের নিচে রোগীর নিখোঁজ স্বজনের মরদেহ

যশোর শহরের বেসরকারি পঙ্গু হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে শনিবার দুপুরে এক রোগীর নিখোঁজ স্বজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত মফিজুর রহমান শেখ এই হাসপাতাল থেকে গত ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার নিখোঁজ হন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামে।

শহরের চাঁচড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ আকিকুল ইসলাম জানান, নিহত মফিজুর রহমানের মা আছিয়া বেগম পঙ্গু হাসপাতালের সপ্তম তলায় গত ২৮ মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি মাকে দেখতে এসে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের নিচে নেমে নিখোঁজ হন।

ওই দিন রাতে তার ছেলে যশোর কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

‘শনিবার দুপুর ১টার দিকে পুলিশ খবর পায় হাসপাতালের নিচতলায় লিফটের নিচে একটি মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হাসপাতালে অবস্থানরত মফিজুর রহমানের স্বজনদের খবর দিলে তারা মরদেহ শনাক্ত করেন।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ সময় ঘটনাস্থলে কোতোয়ালি থানার পুলিশসহ র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ ও পিবিআই কর্মকর্তারা আসেন।

এ ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আতিয়ার রহমান ও লিফট পরিচালনাকারী আব্দুর রহমান ও জাহিদ গাজীসহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে ঘটনার দিন থেকে হাসপাতালের সিসি ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া নিহত মফিজুর রহমান শেখের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা কিছুই খোয়া যায়নি বলে জানান চাঁচড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ আকিকুল ইসলাম।

র‌্যাব যশোরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম. নাজিউর রহমান জানান, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ওই দিনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চাওয়া হলে তারা জানান হার্ডডিস্কে সমস্যার কারণে তাদের কাছে ধারণকৃত ওই দিনের ফুটেজ নেই।

একই কথা জানান যশোর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মফিজুল ইসলাম।

হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী যশোর মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ বলেন, কেন কীভাবে এ ঘটনা তা তিনি জানেন না। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

ওই দিনই সিসি ক্যামেরা অচল হওয়াকে তিনি অঘটন বলে উল্লেখ করেছেন।