ঝুট ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের অফিস ভাঙচুর, গুলি-ককটেল

সাভারের আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র প্রতিপক্ষের অফিসে হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার দুপুরে আশুলিয়ার নরসিংহপুর সোনামিয়া মার্কেট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটনায় হামলাকারী সন্ত্রাসীরা।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক কিংবা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার নরসিংহপুর সোনামিয়া মার্কেট এলাকার আঞ্জুমান ডিজাইনারর্স লিমিটেড কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা করে আসছে জমির প্রতিবেশী সাবেক মেম্বার আবু সামা মৃধা। গত কয়েক দিন ধরে বাহাদুর মৃধা নামে একজন ব্যক্তি ওই কারখানার ঝুট ব্যবসা দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে সাবেক মেম্বার আবু শামা মৃধা তার বাড়ির সামনে নিজ অফিসে বসে ছিলেন। এ সময় বাহাদুর মৃধা ও এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ রনি ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ২০-৩০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী শামা মৃধার অফিসে হামলা চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় শামা মৃধা ও তার কর্মচারী সোহেল গুরুতর আহত হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয় এগিয়ে আসলে রনি ভূঁইয়া তার কাছে থাকা অবৈধ পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

এ ছাড়া সঙ্গে আসা অন্যান্য সন্ত্রাসীরা বাড়িঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।

এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হলে তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আবু শামা মৃধা ও তার কর্মচারী সোহেলকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত শামা মৃধার স্ত্রী সেলিনা আক্তার বলেন, ‘সন্ত্রাসী রনি ভূঁইয়া ও বাহাদুর মৃধা আমার স্বামীর অফিসে হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করেছে। এ সময় তারা রামদা দিয়ে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসীরা এগিয়ে আসলে তাদের মারধর করে এবং গুলি ও ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।’

প্রত্যক্ষদর্শী ফার্নিচার দোকানের মালিক রিপন মিয়া বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে রনি ভূঁইয়া ও বাহাদুর মৃধা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ২০-৩০ লোক নিয়ে শামা মৃধার অফিসে হামলা চালায়। পরে তারা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে ছাদে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় এলাকার লোকজন বাধা দিলে রনি ভূঁইয়া অবৈধ পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে এবং তার সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।’

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রনি ভূঁইয়া এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েক জায়গায় অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি করার অভিযোগ আছে। এলাকাবাসীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আঞ্জুমান ডিজাইনারর্স লিমিটেড কারখানার ম্যানেজার তাউস খান জনি বলেন, ‘আবু শামা মৃধার নামে কারখানা মালিকের সঙ্গে ঝুট নেয়ার চুক্তি রয়েছে। তবে কারখানার জমিটি যৌথ মালিকানা হওয়ায় তার ভাই তাহের মৃধাও এখান থেকে ঝুট নিত। পরে আবু শামা মৃধা নিলেও বর্তমানে বাহাদুর মৃধা ঝুট নেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং আমাদের কারখানার শ্রমিকেরা দুপুরে পরে কারখানায় প্রবেশ করতে পারেনি।’

আজ শিপমেন্টের তারিখ ছিল সেটাও করতে না পারায় প্রায় তিন কোটি টাকা লোকসান গুনতে হতে পারে বলে জানান তিনি।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল বলেন, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে আমরা পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।