দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির প্রতীকী অনশনে অংশ নিয়েছে জামায়াত। কর্মসূচিতে জামায়াত নেতার অংশগ্রহণ করা নিয়ে বিএনপির অনুসারীদের হাতে পিটুনির শিকার হয়েছে সংগঠনটির তিন নেতা।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতীকী গণ অনশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকাল ৮টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। নেতাদের বসার জন্য চেয়ার রাখা হয় এবং সামনের রাস্তায় নেতাকর্মীদের বসার জন্য কার্পেট দেওয়া হয়। ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিতে গণঅনশণ সমাবেশে পরিণত হয়। সকাল ১০টায় কর্মসূচি শুরু হয়।
বিএনপির গণঅনশনে সংহতি প্রকাশ করতে এসেছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল। তাকে পৌঁছে দিতে এসে মারধরের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন জামায়াতের তিনজন নেতা।
জানা গেছে, বিএনপির অনশনে যোগ দিতে নূরুল ইসলাম বুলবুল অনশন মঞ্চের দিকে গেলে বুলবুলকে ফুটপাতে চেয়ারে বসতে বলা হয়। এ সময় যুবদলের কয়েকজন নেতা বুলবুলের ওপর চড়াও হন এতে অন্য জামায়াত নেতারা আহত হন।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘মারধরের ঘটনা ঘটেনি। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।’
হামলার পরও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে অনশনে ছিলেন নূরুল ইসলাম বুলবুল।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মাঠের কর্মসূচিতে সক্রিয় হওয়ায় বিএনপি সাধুবাদ জানিয়ে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বিএনপি মাঠের কর্মসূচিতে নেমেছে এ জন্য আমরা মোবারকবাদ জানাই। আজকে আমরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরকারের লুটপাটের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে এসেছি। দেশের মানুষ সরকারকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর জন্য ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশপ্রেমিক, ইসলামি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে মাঠে নামতে হবে।’
প্রতীকী অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মৎস্য ভবন, কদম ফোয়ারা, পুরানা পল্টনসহ প্রেসক্লাবের আশপাশে অবস্থান নেয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন সংস্থার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়। অনশনে নেতা–কর্মীরা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে দ্রব্যমূল্য কমানো, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিএনপির এই কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোট এবং এর বাইরের সরকার বিরোধী কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা অনশনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
জামায়াত নেতা ছাড়াও বিএনপির এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) রেদোয়ান আহমেদ, লেবার পার্টির ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) খন্দকার লুৎফুর রহমান, এনডিপির আবু তাহের, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি, পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, অধ্যাপক আব্দুস সালাম, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, এম আবদুল্লাহ, কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।