ভারতের মেঘালয় থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে গতকাল শনিবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান। হাওর ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগাম বন্যার শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে নির্মিত নজরখালি বাঁধটি গতকাল সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করে ভেঙে যায়। এতে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে পাকা-আধাপাকা ধান। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে অস্বাভিকভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। শনিবার সকালে সরেজমিনে নজর খালি বাঁধে দেখা যায়, স্থানীয় যাদুকাটা ও পাঠলাই নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে টাঙ্গুয়ার হাওরের নজর খালি বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে পানি ঢুকছে।
স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ আলী শেখ জানান, এ হাওরে ২ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলেন। শনিবার নজরখালি বাঁধ ভেঙে তার সব জমির ধান তলিয়ে গেছে। কাঁচা ধানগুলো ঘরে তোলার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শিমুল আহমেদ বলেন, নদীতে অস্বাভিক পানি বৃদ্ধির ফলে শনিবার সকালে হঠাৎ করে নজরখালি বাঁধটি ভেঙে আট-দশটি গ্রামের কৃষকের অনেক জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধান নষ্ট হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ দৌলা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষিত জলাভূমি হওয়ায় এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আইইউসিএন (টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রকল্প) এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বাঁধ নির্মাণ হয়নি। যে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকেছে সেটি স্থানীয় কৃষকদের নির্মিত।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির বলেন, নজরখালি বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প নয়। স্থানীয় কৃষকরা নিজে থেকে এ বাঁধটি নির্মাণ করেছিলেন। নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধটি ভেঙে যায়। আমরা ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করব। পরে সরকারি কোনো সহযোগিতা এলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গেল কয়েকদিনে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বাড়ছে হাওর ও নদীর পানি। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই কৃষকদের সর্তকবার্তা দিয়ে রাখা হয়েছে। সবাইকে বাঁধ ও ফসলের দিকে নজর রাখতেও বলা হয়েছে।