আশুলিয়ায় ঝুট নিয়ে দ্বন্দ্ব

অফিসে ঢুকে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে অফিসে ঢুকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তারা ভাঙচুর করে। ফাঁকা গুলি ও হাতে তৈরি বোমার (ককটেল) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। হামলায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে আশুলিয়ার নরসিংহপুর সোনামিয়া মার্কেট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোনামিয়া মার্কেট এলাকার আঞ্জুমান ডিজাইনারস লিমিটেড কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা করে আসছেন প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবু সামা মৃধা। গত কয়েকদিন ধরে বাহাদুর মৃধা নামে এক ব্যক্তি ওই কারখানার ঝুট ব্যবসা দখলের চেষ্টা করছেন। গতকাল দুপুরে আবু সামা মৃধা তার বাড়ির সামনে নিজ অফিসে বসে ছিলেন। এ সময় বাহাদুর মৃধা ও এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ২০-৩০ জন অস্ত্রধারী তার অফিসে হামলা চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তারা সামা মৃধার কর্মচারী সোহেলকেও কুপিয়ে আহত করে। তাদের চিৎকার শুনে লোকজন এগিয়ে এলে রনি ভূঁইয়া তার কাছে থাকা অবৈধ পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তার সঙ্গীরা বাড়িঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সামা মৃধা ও তার কর্মচারী সোহেলকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সামা মৃধার স্ত্রী সেলিনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাসী রনি ভূঁইয়া ও বাহাদুর মৃধা অফিসে ঢুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করেছে। এ সময় তারা রামদা দিয়ে তার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ফার্নিচার দোকানের মালিক রিপন মিয়া বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে রনি ভূঁইয়া ও বাহাদুর মৃধা দেশীয় অস্ত্রধারী ২০-৩০ লোক নিয়ে সামা মৃধার অফিসে হামলা চালায়। পরে তারা আঞ্জুমান ডিজাইনারস লিমিটেড কারখানার ছাদে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, রনি ভূঁইয়া এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েক জায়গায় অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি করার অভিযোগ আছে। এলাকাবাসীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

আঞ্জুমান ডিজাইনারস লিমিটেড কারখানার ব্যবস্থাপক তাউস খান জনি বলেন, কারখানা মালিকের সঙ্গে আবু সামা মৃধার ঝুট ব্যবসার চুক্তি রয়েছে। কারখানার জমিটি যৌথ মালিকানা হওয়ায় তার ভাই তাহের মৃধাও এখান থেকে ঝুট নিত। বর্তমানে বাহাদুর মৃধা ঝুট নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সামা মৃধাদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’