বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি শুরু করেছে ছায়ানট। ইতিমধ্যে রমনার বটমূলে বর্ষবরণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। বরাবরের মতো সরকারের সব মহলের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল শনিবার রাজধানীর ছায়ানট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা।
লাইসা আহমেদ বলেন, রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করে, সবাইকে নিয়ে নবআনন্দে জেগে ওঠার এবারের আয়োজনে ছায়ানট সর্বান্তকরণে নতুনত্ব যোগ করতে প্রয়াসী। এ বছর ছায়ানটের বর্ষবরণের প্রতিপাদ্য ‘নব আনন্দে জাগো’।
লাইসা আহমেদ লিসা আরও বলেন, ‘সাধারণভাবে ছায়ানটের বর্ষবরণের মঞ্চে কমবেশি ১২৫ জন শিল্পী থাকে। তবে স্বাস্থ্যবিধি বিবেচনায় রেখে এবারও শিল্পীসংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। মাসাধিককাল ধরে চলছে দলীয় পরিবেশনার মহড়া। পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৬টা থেকে রমনার বটমূলে রাগালাপ ও সংগীতে শুরু হবে ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন, নির্বাহী সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী, সহসভাপতি ড. আতিউর রহমান, সহসভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল। ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন বলেন, গত দু’বছর আমাদের মনের ভেতর অনেক বেদনা গেছে। মহামারীর ভয়াবহতা সবকিছু সঙ্কুচিত করে রেখেছে। পহেলা বৈশাখ আমরা সেভাবে করতে পারেনি। এবার যখন করার প্রস্তুতি নিয়েছি তখন আমাদের মনে আনন্দ অশেষ।
রমজান মাসে সব নিয়ম ও ধর্মীয় রীতি মেনে পহেলা বৈশাখ পালন করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগেও রমজানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। সংস্কৃতি ও ধর্মের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
ছায়ানটের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের নির্দেশ দিয়ে ছায়ানট আয়োজিত এই বর্ষবরণ উৎসবকে প্রথম জাতীয় মর্যাদা দেন বঙ্গবন্ধু। যে মর্যাদা অক্ষুণœ রেখেছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারও। বাংলা বর্ষবরণ এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্ববাঙালির প্রধান প্রাণের উৎসব, বাঙালি ঐতিহ্যের অঙ্গ। আমাদের প্রত্যাশা, বটমূলে অর্ধ শতাধিক বছরের এই উৎসবের ধারায় বাঙলির প্রত্যাবর্তন হবে সংযমী-প্রাণবন্ত-আনন্দঘন এবং বিপর্যয় বিনাশের অঙ্গীকারে বলীয়ান।