টিপ পরায় ঢাকার রাস্তায় গতকাল শনিবার হয়রানির শিকার হয়েছেন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার। এ বিষয়ে গতকাল শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
লতা সমাদ্দারের ঘটনাটি গতকাল শনিবার রাতেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে নারীরা টিপ পরা ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পুরুষেরাও শামিল হচ্ছেন প্রতিবাদে।
রবিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রে এ ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা বাংলার আবহমানকালের জাতি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকার ও নারীর সাজ এবং পোশাকের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস। জননিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ প্রশাসনের কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনা সম্মিলিতভাবে এখনই প্রতিহত করা দরকার।
এ ঘটনায় সংসদে অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফাও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, কোন আইনে আছে মেয়েরা টিপ পরতে পারবে না।
নারীপক্ষ নামে একটি সংগঠনও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ-আল মামুন ফেসবুকে পুরোনো একটি টিপ পরা ছবি শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, ‘ছবিতে সবাই টিপ পরা। ওই ছবিতে নৃবিজ্ঞানী বখতিয়ার আহম্মেদও আছেন।
টিপ পরা ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কবি সৈয়দ তারিক। তিনি কোনো ক্যাপশন না দিয়ে শুধু টিপ পরা ছবি দিয়েছেন।
সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটের স্কলার ইমামুল বাকের এ্যাপোলো টিপ পরা ছবি শেয়ার করেছেন।
সাংবাদিক ওমর ফারুক শামীম নিজের ও তার সহকর্মীদের টিপ পরা ছবি শেয়ার করেছেন। শুধু ‘প্রতিবাদ’ শব্দটি লিখে তিনি ছবি শেয়ার করেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীতের অধ্যাপক কৌশিক আহমেদ লিখেছেন, ‘একটি লাল টিপ/ হারিয়ে যাওয়া/ হাজার বছরের পাণ্ডুলিপি। হোক প্রতিবাদ।’
লেখক শেখ সাদ্দাম হোসেনও টিপ পরা ছবি দিয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।
এ ঘটনায় অনেকে সবর হয়েছেন। কবি লেখক বুদ্ধিজীবী ও সচেতন মহল এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
কবি ও কথাসাহিত্যিক মাহবুব মোর্শেদ লিখেছেন, ‘অমঙ্গল থেকে বাঁচার জন্য আমাদের মেয়েরা প্রাচীনকাল থেকে টিপ পরে। তবু অমঙ্গল থেকে বাঁচতে পারে না। অমঙ্গল থেকে বাঁচতে সবাইকে টিপ পরতে হবে। টিপ পরে দলে দলে সবাই শাহবাগে যান। টিপ আন্দোলনের সঙ্গে আছি।’
সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষ টিপ পরা নিয়ে টিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, টিপ পরা বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। বাঙালি সংস্কৃতির চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় হচ্ছে, মানুষের রুচিবোধ ও জীবনযাপন নিয়ে পুলিশিংয়ের ঘটনাকে মানুষ ‘না’ করছে।