পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া যুবকের মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের শ্রীপুরে আসামি ধরতে গেলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় চল্লিশ ঘণ্টা পর ঘটনার দেড় কিলোমিটার উজানে বানার নদের পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মৃতদেহটি।

রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বাড়ির পাশে বরমী ইউনিয়নের বারামা রায়েদ এলাকার বানার নদে (স্থানীয়দের কাছে পরিচিত শীতলক্ষ্যার) ঝাঁপ দেন মামুন (২৮) নামে ওই যুবক।

এরপর কয়েক দফায় ডুবুরি দল লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

মঙ্গলবার সকালে স্বজনরা খুঁজতে গিয়ে লাশ নদীতে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

 নিহত মামুন আহমেদ বরামা এলাকার কৃষক নুরুল ইসলামের ছেলে। স্বজনদের দাবি, পুলিশ মামুনকে ধরার পর অমানবিক নির্যাতন করেছে। নিরুপায় হয়ে পাশের নদীর পানিতে ঝাঁপ দেন তিনি।

পুলিশ বলছে, মামুন একাধিক মামলার আসামি। একটি মামলার পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) ছিল তার নামে। পরে ধরতে গেলে তিনি কৌশলে পাশের নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে পুলিশ।

নিহত মামুনের বড় ভাই মাসুম মিয়া জানান, লাশ উজানের পানিতে ভেসে ছিল। লম্বা সময় পানিতে থেকে মরদেহ ফুলে গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইয়ের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার দিন পুলিশ বেশ মারধর করেছিল বলে আমরা জেনেছি। এ নির্যাতন থেকে বাঁচতেই নদীর পানিতে ঝাঁপ দেয় সে। কিন্তু শেষমেশ বাঁচতে পারলো না।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূইয়া বলেন, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সে অনুযায়ী পুলিশ তাকে ধরতে অভিযানে গেলে সে কৌশলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তাকে কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি বলেও এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

গত ৩ এপ্রিল রবিবার বিকেলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মামুন আহম্মেদ। এরপর প্রায় দুদিন ফায়ার সার্ভিসের টঙ্গী স্টেশনের চার সদস্যের একটি ডুবুরি দল কয়েক দফায় নদীর পানিতে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু নদীতে জোয়ার থাকায় মরদেহ উজানে ভেসে চলে যাওয়ায় লাশ খোঁজে পায়নি ডুবুরি দল। আজ উদ্ধার হলো মামুনের মরদেহ।