হলের সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ছাত্রলীগ ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে মধ্যরাত ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ও বিজয় দিবস হলের সামনে, হল চত্বর এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়।
ছাত্রলীগের অভিযোগ, শেখ রাসেল হলে দীর্ঘদিন ধরে সিট নিয়ে ঝামেলা। এই হলে কোন বিভাগ থেকে তিনজন, কোন বিভাগ থেকে ছয়জন আবার কোন বিভাগ থেকে ৪৬ জনকে সিট দিয়ে স্বজনপ্রীতি ও বিভাগ বৈষম্য করছেন প্রভোস্ট। একটি সিটে একসঙ্গে তিন থেকে চারজনকে বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংঘর্ষিক জায়গা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হলে ছাত্রলীগকর্মী হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলম নামে এক সাবেক শিক্ষার্থী হল প্রভোস্ট মো. ফায়েকুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে অসদাচরণ করেন।
পরে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থীরা শেখ রাসেল হলে উপস্থিত হলে জাহাঙ্গীর আলম গ্রুপের শিক্ষার্থীরা হলের বাইরে অবস্থান নেন।
এ সময় জাহাঙ্গীর গ্রুপের সঙ্গে দুই হলের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের সময় দেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছেন উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা। এতে পুরো ক্যাম্পাস থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার পাশাপাশি উভয় পক্ষের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনায় বুধবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট মো. ফায়েকুজ্জামান মিয়াকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রলীগকর্মী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ তুলে ধরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট মো. ফায়েকুজ্জামান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আগে মিটিং করে দূর থেকে এই সংঘর্ষের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শেখ রাসেল হলে দীর্ঘদিন ধরে সিট নিয়ে ঝামেলা। সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও বিভাগ বৈষম্য করছেন প্রভোস্ট। এক সিটে তিন থেকে চারজনকে বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংঘর্ষিক জায়গা তৈরি করছেন।
শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট মো. ফায়েকুজ্জামান মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে হলে প্রক্টর বা অন্যকারো নিলেই হয়। আমি স্পটে ছিলাম না, বাসায় এখন। প্রক্টরিয়াল বডিতে যারা আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
সংঘর্ষের বিষয়ে আপনি জেনেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শুনেছি। শিক্ষার্থীরা আমাকে জানিয়েছেন। আমি ভিজিট না করে আসলে কিছু বলতে পারছি না।
এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবি প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এখন কথা বলতে পারব না।