বোয়ালমারীর ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও প্রাণনাশের হুমকির মামলা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম (৫৫) ও এসআই উত্তম কুমার সেনের (৫০) বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৭ নং আমলি আদালতে মঙ্গলবার দুপুরে মামলাটি দায়ের করেন বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের মোবারকদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হক মোল্লার ছেলে ব্যবসায়ী মো. আতিয়ার রহমান নান্টু। দণ্ডবিধির ৩২৩/৩৮৫/৫০৬(বি)/১১৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মামলার বাদী আতিয়ার রহমান নান্টু বোয়ালমারী পৌর সদরের ওয়াপদার মোড়ে ২০০০ সালে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ২ শতাংশের ওপর গুদাম ঘর (হোল্ডিং নং ০৬০৭-০১) নির্মাণ করে হার্ডওয়ারের ব্যবসা করে আসছেন।

তার সাথে জমিজমা নিয়ে সোতাশী গ্রামের মৃত মহিউদ্দীনের ছেলে মো. ইয়াকুব হোসেন ও মো. বেলায়েত হোসেনের বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত ব্যক্তিরা জোরপূর্বক জমি ও গুদাম ঘর দখল করে নেয়ার পাঁয়তারা করতে থাকায় বাদী আতিয়ার রহমান নান্টু ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর থানায় জিডি করেন। জিডি নং ১৯৭৭।

ওই তারিখে ওসির নিকট বিস্তারিত অভিযোগ দিলে ওসি নুরুল আলম বাদী নান্টুর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি (নান্টু) ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে ওসি এস আই উত্তম কুমার সেনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এস আই উত্তম কুমার সেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়াকুব হোসেন ও তার ভাই বেলায়েত হোসেনকে নান্টুর জমি ও ঘরে যেতে নিষেধ করে আসেন।

এরপর গত ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে ইয়াকুব ও বেলায়েত হোসেন লোকজন নিয়ে বাদীর গুদাম ঘরের তালা ভেঙে সিমেন্টের বস্তা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক আতিয়ার রহমান নান্টু থানায় গিয়ে ওসিকে জানালে ওসি নুরুল আলম আরও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বলেন, টাকা না দিলে ইয়াকুবদের নিকট থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাদের ঘরে তুলে দেবেন।

টাকা দিতে অস্বীকার করলে আতিয়ার রহমান নান্টুকে জীবননাশের হুমকি দেন ওসি নুরুল আলম এবং এস আই উত্তম কুমারকে দিয়ে টেনে হিঁচড়ে থানা থেকে বের করে দেন। এ সময় ওসি হাত পা ভেঙে দেওয়া এবং পেন্ডিং মামলায় দিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন। এরপর নান্টুর ঘরে ইয়াকুবদেরকে তুলে দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ করে দেয় ওসি। এর প্রতিকার চেয়ে আতিয়ার রহমান নান্টু ফরিদপুরের পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

মামলার বাদী আতিয়ার রহমান নান্টু বলেন, আমার ক্রয়কৃত সাড়ে দশ শতাংশ জমি থেকে দুই শতাংশের ওপর ঘর তুলে আমি ২০ বছর যাবৎ ব্যবসা করে আসছি। ইয়াকুবরা পুলিশের সহায়তায় অন্যায়ভাবে আমার ঘর দখল করে নিয়েছে। ওসি সাবকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় ওদেরকে ঘরে তুলে দেয়। পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিলে ওসি আমার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জনের নিকট দরবার দিয়েছে। কিন্তু আমার তো টাকা না, ঘর দরকার। বিদ্যুতের মিটার, ট্রেড লাইসেন্স সবকিছু আমার আছে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত মামলা করে দিলাম।

বাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অ্যাড. খন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, আমাদের নিকট যথেষ্ট পরিমাণ প্রমাণাদি রয়েছে বিধায় বোয়ালমারী থানার ওসি মো. নুরুল আলম এবং এসআই উত্তম কুমার সেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি পরিচালনা করার দায়িত্ব দিয়েছেন।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, অভিযোগ দেওয়ার ও মামলা করার স্বাধীনতা মানুষের আছে। তবে যে অভিযোগে মামলা করেছে সে অভিযোগ সত্য নয়। আমি বোয়ালমারীতে আছি, নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। টাকার জন্য কাউকে হয়রানি করেছি এমন রেকর্ড নেই, কেউ বলতেও পারবে না। এটি সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা।

ফরিদপুরে পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমরা আগে থেকেই তদন্ত করছি। পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিষয়টি দেখছেন এবং পর্যবেক্ষণ করছেন। যেহেতু মামলাও হয়েছে, বিষয়টিকে অবশ্যই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।

তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে একটি কোন ছাড় দেয়া হবে না।