কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে এই মুহূর্তে খাদ্য নিয়ে কোনো হাহাকার নেই। ২০০৩-২০০৪ সালে আশ্বিন কার্তিক মাসে মঙ্গার কারণে শত শত মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। এটি বাংলাদেশের পত্র পত্রিকায় রিপোর্ট রয়েছে, আমার রিপোর্ট নয়। শেখ হাসিনার ১৩ বছরে একজন মানুষ না খেয়ে মারা গেছে এমন তথ্য কোনো সংবাদকর্মী দিতে পারলে আমি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব।
বৃহস্পতিবার সকালে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুড়ি গ্রামে ব্রি -৯২ জাতের বীজ উৎপাদনকারী কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশ এখন খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করছি। এখন আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ লক্ষ নতুন শিশু এ দেশে জন্মগ্রহণ করছে। এদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিতে আমাদের নতুন নতুন জাতের উদ্ভাবন করতে হবে। দেশে কৃষি জমি কমে যাওয়ায় নতুন জাতের মাধ্যমে আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বোরো আমাদের মূল ফসল। আমাদের মূল খাদ্য চাল। এই চালের বেশি উৎপাদন হয় বোরো থেকে। প্রায় দুই কোটি টনের মত বোরো আমরা উৎপাদন করি। আমরা অনেকগুলো নতুন জাত উদ্ভাবন করেছি। যেগুলোর উৎপাদনশীলতা আগের অন্য জাতের চেয়ে অনেক বেশি। আমরা চাচ্ছি এসব জাত যত দ্রুত মাঠে নেওয়া যাবে ততই আমরা লাভবান হব।
মন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া সবচেয়ে বেশি খাদ্য রপ্তানি করে। সেখানে এখন যুদ্ধ, সেখানে খাদ্য পাওয়া যাবে না। খাদ্য উৎপাদন না করলে এবং পরের ওপর নির্ভরশীল থাকলে সেখানে দুর্ভিক্ষ হবে। তাই নিজের খাদ্য নিজেদেরই উৎপাদন করতে হবে।
দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের নানা ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এ সময় কৃষিসচিব সায়েদুল ইসলাম, মহাপরিচালক বেনজির আলম, মানিকগঞ্জ প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।