সুপ্রিম কোর্টে হেরে গেলেন ইমারন খান: শনিবার অনাস্থা ভোট

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। তার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে শনিবার অনাস্থা ভোট আয়োজনের নির্দেশ দেয় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার রাতে রায় ঘোষণা করে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর অধিকার নেই রাষ্ট্রপতিকে বিধানসভা ভাঙার পরামর্শ দেওয়ার। আজ পর্যন্ত করা সমস্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটের অনুমতি দিতে জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কাসিরকে শনিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টায় অধিবেশন আহ্বান করার নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত।

খবর জিও নিউজ।

রায়ে আরো বলা হয়, যদি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সফল হয়, তাহলে বিধানসভা নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবে।

পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বন্দিয়াল এর আগে বলেছিলেন যে, জাতীয় স্বার্থ এবং বাস্তব সম্ভাবনা দেখেই আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। 

তিনি বলেন, অনাস্থা ভোট খারিজ করে দেওয়া ডেপুটি স্পিকারের রায়টি প্রাথমিকভাবে ৯৫ ধারার লঙ্ঘন। 

প্রধান বিচারপতি বন্দিয়ালের নেতৃত্বে এবং বিচারপতি মুনীব আখতার, বিচারপতি আইজাজুল আহসান, বিচারপতি মাজহার আলম এবং বিচারপতি জামাল খান মন্দোখেলের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ মামলাটির শুনানি করে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ড. আরিফ আলভির জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত 'অবৈধ' ছিল। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার মন্ত্রিসভায় বহাল থাকবেন।

রায়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের সমাপ্তি ছাড়া অধিবেশন মুলতবি করা যাবে না।

দেশটির প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারপতিরা একে অপরের সঙ্গে পরামর্শ করার পর ৫-০ ভোটে সর্বসম্মতিক্রমে রায় ঘোষণা করা হয়। 

এ রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আদালতের বাইরে মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা বিরোধী দলগুলোর অনাস্থা প্রস্তাব ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে ৩ এপ্রিল খারিজ করে দেন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে পার্লামেন্ট ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। 

এ পুরো প্রক্রিয়াকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন বিরোধীরা। 

অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের দিনই স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে নোটিশ দেন। সর্বোচ্চ আদালত তখন বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তারা নজর রাখছেন।