দিনাজপুরের বাঁশেরহাট এলাকার একটি মেস থেকে গত ১৮ মার্চ রাতে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মিজানুর রহমান পলাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বাঁশেরহাট এলাকায় ‘ব্লু-মুন’ নামে একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করছিলেন।
তার পরিবারের দাবি, মিজানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখে এখন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানের বাবা আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে বিশ্ববিদ্যালযের পূর্ব পাশে দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালি থানার ডেপুটি রেজিস্টারের ব্লু-মুন স্টুডেন্ট হাউসের দ্বিতীয় তলার ২০২ নম্বর রুমে থেকে পড়াশোনা করে আসছিল। গত ১৮ মার্চ আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টায় মিজানুরের বন্ধু জানায় যে ওর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলা অবস্থায় ডিসকানেক্ট হয়ে যায় এবং ওর রুমে লোকের উপস্থিতির কথা বলে। তাই ওর বন্ধুরা আমাদের তাড়াতাড়ি ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। পরে আমরা ওর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করি, কিন্তু কিছুতেই যোগাযোগ করতে পারি না। কে যেন ওখান থেকে কল কেটে দেয়।
তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ইনচার্জ এবং ডিবি পরিচয়ে ফোন দিয়ে জানায় মিজানুর রহমানের অবস্থা ভালো না, আপনারা সবাই তাড়াতাড়ি চলে আসেন। এ বলে ফোন কেটে দেয় এবং হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে।
মিজানুরের বাবা আরো বলেন, আমরা সবাই ওখানে গিয়ে দেখি আমার ছেলে হাসপাতালের মর্গে আছে। আমরা ওর হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং বাড়ির মালিক জানায়, আমার ছেলে সুইসাইড করে মারা গেছে। এরপর দরজা ভেঙে ওকে বের করা হয়েছে। একটা মানুষ সুইসাইড করলে গলাতে যেভাবে দাগ থাকার কথা, সেটা আমরা দেখিনি।
মিজানের বাবা জানান, বিভিন্ন সোর্স থেকে ছবি সংগ্রহ করে দেখতে পেয়েছেন মিজানের এক হাত বাঁধা ছিল এবং পা মেঝের সঙ্গে বাকানো ছিল।
তিনি বলেন, বাড়ির মালিক এবং প্রক্টর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার যে কথা বলেছিল বাস্তবে দরজা ভাঙার কোনো চিহ্ন ছিলনা। এমনকি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যন্ত দেখানো হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে মেসের কেউ রাজি হয়নি। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট বুঝতে পারা যায় যে এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মিজানকে মেরে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
মিজানের বাবা বলেন, এত কিছুর পরও যখন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা এবং জিডি করতে গেলেও নেয়নি। তাই পরে আদালতের মাধ্যমে গত ২৭ মার্চ মামলা করেছি। আমার ছেলে হত্যার সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা চাচ্ছি। সেই সঙ্গে প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তবে জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরের দিনাজপুর প্রতিনিধিকে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান শুক্রবার রাতে বলেন, জিডিমূলে করা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। সেখানে আত্মহত্যার কথা বলা আছে। তবে পরিবার আদালতে যে মামলা করেছে তার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।
এর আগে ১৮ মার্চ ওই ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তখন হাবিপ্রবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মামুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শুক্রবার মধ্যরাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীর লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রেমঘটিত কোনো ঘটনা হতে পারে। এরপরও বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা যাচ্ছে না।’