ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধেও অনাস্থা, ইমরানের বিরুদ্ধে ভোটের অপেক্ষা

এবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার মোহাম্মদ কাসিম খান সুরির বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব তুলেছে দেশটির বিরোধী জোট। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটির আগে এই অনাস্থা প্রস্তাব তোলা হল।

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোলা প্রস্তাবে শনিবার ভোটাভুটির আগের দিন শুক্রবার ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জাতীয় পরিষদে জমা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের মুসলিম লিগ (নওয়াজ) নেতা মুরতজা জাবেদ আব্বাসী এই অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব গত ৩ এপ্রিল ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরিই বাতিল করেছিলেন। যে কারণে তার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে সংবিধান লঙ্ঘনের কারণে তার অপসারণ চাওয়া হয়েছে।

বেলুচিস্তান থেকে নির্বাচিত পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ সদস্য কাসিম সুরি পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) নেতা। তিনি দলটির প্রধান ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তান পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কাইসারের বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল বিরোধী জোটগুলো।

সেই প্রেক্ষাপটে গত ৩ এপ্রিল জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন কাসিম সুরি। তিনি প্রধানমন্ত্রী ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল করে দিলে তা সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি করে পাকিস্তানে।

বিষয়টিতে তখন সর্বোচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করে। আদালত ডেপুটি স্পিকারের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির জন্য শনিবার দিন ঠিক করে দেয়।

 

অধিবেশন শুরু, ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের অপেক্ষা

ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কি না, সে প্রশ্নে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট হবে আর কিছু সময়ের মধ্যে।

স্পিকার আসাদ কায়সারের সভাপতিত্বে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়। এই অধিবেশনেই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

জিও নিউজ জানিয়েছে, পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শাহবাজ শরিফ বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তবে তার বক্তব্যের শুরুতেই হট্টগোল করেন সংসদ সদস্যরা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটি দিনের আলোচ্যসূচির চতুর্থ বিষয়। বিরোধীদের প্রায় সব সদস্যই পার্লামেন্টে উপস্থিত রয়েছেন। তবে এতে যোগ দেননি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রিত্ব যে টিকছে না, সেটা প্রায় নিশ্চিত। সার্বিক পরিস্থিতিতে অবস্থা এখন এমন, যেন সুতায় ঝুলছে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া এই প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্য। তিনি থাকছেন নাকি বিদায় নিচ্ছেন, সে ফলের জন্য পার্লামেন্টের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে আগ্রহীদের।

দ্য ডন বলছে, সম্মান বাঁচানোর চেষ্টায় অবশ্য এই পার্লামেন্টই ভেঙে দিয়েছিলেন ইমরান। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যা রায় হবার তা হবে পার্লামেন্টেই। অসাংবিধানিক কিছু করা যাবে না।

পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া-না দেয়া নিয়ে সৃষ্ট সংকটে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তা মানলেও দেশে কোনো ‘আমদানি করা’ সরকার মানবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

সবমিলিয়ে যে অবস্থা তাতে ধারণা করা করাই যায়, অনাস্থা ভোটে হারার লজ্জা নিয়েই হয়তো ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা ইমরান খানকে।

ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা না থাকা নিয়ে চরম রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে পাকিস্তান। ইমরানের দাবি, তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ ও বিদেশিরা এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন ইমরানসহ অনেকেই। এমনকি রাশিয়া অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবাধ্য’ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শাস্তি দিতে চেয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইমরান খানের বিরোধীদের অর্থায়ন করে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে তার সরকার পতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইমরান খানের বিরোধীদের দাবি, ২০১৮ সালে সামরিক বাহিনীর সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান। এখন তাঁর মাথার ওপর থেকে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর ছায়া সরে গেছে। যদিও কোনো পক্ষই বিষয়টি স্বীকার করে না। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে ‘গুরুতর রাষ্ট্রদ্রোহ’ করেছেন ইমরান খান।

পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে কোনও প্রধানমন্ত্রীই নিজেদের ক্ষমতার পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ সমাপ্ত করতে পারেননি। কখনও খুন হয়ে, আবার কখনও বিরোধী দলের অনাস্থার মুখে পড়ে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীদের।