কৃষিমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ক্ষুধার তাড়নায় এক কৃষকের আত্মহত্যাসহ কয়েকটি সংবাদ উল্লেখ করে অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
গত বৃহস্পতিবার কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের আমলে কেউ না খেয়ে মারা গেছেন, কোনো সাংবাদিক এমন তথ্য দিতে পারলে তিনি মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করবেন।
শনিবার নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রিন্স এই দাবি করেছেন।
এ সময় তিনি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের অভাবের কারণে আত্মহত্যার বিবরণ তুলে ধরেন। কালের কন্ঠ পত্রিকায় ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল প্রকাশিত খাবারের অভাবে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে আফরোজা খাতুন, দৈনিক ইত্তেফাকে ২০২১ সালের ৫ জুলাই প্রকাশিত মুন্সিগঞ্জে দিনমজুর দ্বীন ইসলামের , যুগান্তর পত্রিকায় ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল প্রকাশিত শেরপুর জেলার গাজীর খামার ইউনিয়নের চককোমাড়ি গ্রামের কনিকা, বাংলাদেশ জার্নালে ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গ্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি হাতিশালা মোড় এলাকায় ইদ্রিস আলীর আত্মহত্যার সংবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অনেক মৃত্যুর সংবাদ দেয়া যাবে, যারা খাবারের অভাবে মৃত্যুবরণ করেছে।
তিনি বলেন, আশাকরি কৃষিমন্ত্রী এসব আত্মহত্যার দায় স্বীকার করে তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবিলম্বে পদত্যাগ করবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার নিজেদের ব্যার্থতা আড়াল করতে দমন-নিপিড়নের পাশাপাশি মিথ্যাচারকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। এই সরকার, জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপব্যবহার করে মিথ্যার ওপর দাড়িয়ে আছে।
খাদ্য উৎপাদন নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী মিথ্যাচার করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। অথচ প্রতিবছর হাজার হাজার টন খাদ্য আমদানি করছে।
তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলের মানুষের সঙ্গেও সরকার প্রতারণা করছে। বাঁধ নির্মাণ, পুনঃনির্মাণের নামে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতি-লুটপাট করছে, যার কারণে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হচ্ছে।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, অসত্য স্বীকারোক্তি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তাকে একের পর এক ফরমায়েশি রায় দিয়ে আটক রেখেছে। শত নির্যাতনে নত স্বীকার করেন নাই।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মেলনের প্রধান বক্তা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক এড. ওয়ারেস আলী মামুন বলেন, বিদেশীদের কাছে ধরনার বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ায় তারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। সরকার স্বাধীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন বা ক্ষমতার পালাবদলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করে নির্বাচনী ব্যাবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিদেশীদের পা ধরে লাভ নাই, আওয়ামী সরকারের পদত্যাগ বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।
মদনের বাড়িভাদেরায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হেলিম ভুলুর সভাপতিত্বে সম্মেলন উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক।
অন্যান্যের মধ্যে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবর রহমান, বজলুর রহমান পাঠান,মনিরুজ্জামান দুদু, মদন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব বদরুজ্জামান মানিক,পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান হাসান চন্দন বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সম্মেলনে যাবার পথে পুলিশ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ নেতাদের গাড়ি আটকান। মদন উপজেলা বিএনপির নেতা কর্মীদের মদন বাজারে আটকিয়ে সম্মেলনে যেতে বাধা প্রদান করে। পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে আটকে পড়া কাউন্সিলরদের নিয়ে এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।