আগের ম্যাচেই একসঙ্গে জ্বলে উঠেছিলেন পিএসজির আক্রমণভাগের তিনজন মেসি, নেইমার ও এমবাপে। সেই ধারিবাহিকতা দেখা গেল রবিবার ক্লেমঁ’র বিপক্ষেও। হ্যাটট্রিক করেছেন নেইমার ও এমবাপে। আর মেসি করেছেন অ্যাসিস্টের হ্যাটট্রিক। তাতে পিএসজি পেয়েছে ৬-১ গোলের বড় জয়। এই জয় শিরোপা ধরে রাখার পথে আরও এগোলো প্যারিসিয়ানরা। ৩১ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৭১ পয়েন্ট। খুব কাছের রেনের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট এগিয়ে তারা।
ক্লেমঁর মাঠে মেসি-নেইমারের নৈপুণ্যে ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় পিএসজি। মেসির পাস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ১৯ মিনিটে দ্বিগুণ হয় ব্যবধান। বাঁ দিক থেকে নেইমারের ক্রস মেসি বুক দিয়ে নামিয়ে বাড়ান ডি-বক্সে। এমবাপে বাকি কাজটা সারেন। ৪২ মিনিটে ব্যবধান কমালে ২-১ স্কোর নিয়ে বিরতিতে যায় পিএসজি। ৬৩ মিনিটে মেসি বল জালে জড়িয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডে তা বাতিল হয়ে যায়। ৭১ মিনিটে ডি-বক্সে এমবাপে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। স্পটকিকে গোল করেন নেইমার। তিন মিনিট পর মাঝমাঠের কাছ থেকে মেসির পাস পেয়ে নেইমার লম্বা করে বাড়ান ডি-বক্সে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে জড়ান এমবাপে। ৮০ মিনিটে তিনি ‘হ্যাটট্রিক’ পূর্ণ করেন এমবাপে-মেসি। মেসির পাস থেকে বল জালে জড়ান এমবাপে। তিন মিনিট পর হ্যাটট্রিক পূরণ করেন নেইমার।
২৮ ম্যাচে ২০ গোল করে লিগ ওয়ানের গোলদাতাদের শীর্ষে এমবাপে। গোল ও অ্যাসিস্টের শীর্ষেও তিনি। মেসি অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে আছেন দুইয়ে (১৩টি)। মেসি-এমবাপের চমৎকার বোঝাপড়ার প্রমাণ দুজনে মিলে (গোল বা অ্যাসিস্ট) লিগে আট গোল করেছেন। কোচ পচেত্তিনো বলেছেন, ‘মেসি-নেইমার-এমবাপের সমন্বয়? সমস্যা হলো মানুষ কথা শোনে না। মৌসুমের শুরু থেকেই বলে এসেছিলাম তাদের মধ্যে বোঝাপড়ায় সময় লাগবে।’ তিনজন একসঙ্গে জ্বলে উঠলে কী হতে পারে তা গত দুই লিগ ম্যাচে দেখা গেল। ইনজুরির কারণে বেশ কিছু ম্যাচ মিস করা নেইমার ১৭ লিগ ম্যাচে গোল করলেন ১০টি। এরমধ্যে পাঁচটিই করলেন গত দুম্যাচে। ফ্রান্সের শীর্ষ লিগে এর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সবশেষ দেখা গিয়েছিল একই ম্যাচে দুই সতীর্থের হ্যাটট্রিক। সেবার পিএসজির হয়ে গ্যাঁগোঁর বিপক্ষে এডিনসন কাভানি ও এমবাপে করেছিলেন হ্যাটট্রিক।