শিবগঞ্জে হাতবোমার (ককটেল) বিস্ফোরণে চোখ হারাতে বসেছে এগার বছর বয়সী শিশু ইমন। আহত রিমন ওরফে ইমন চতুরপুর মহল্লার ভ্যানচালক আনারুল ইসলামের ছেলে ও আলীডাঙ্গা জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রথম দফা অপারেশনের পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিন মাস পর ইমনের ফের অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।
ইমনের বাবা আনারুল ইসলাম ও মা শিউলি বেগম জানান, গত ১৮ মার্চ অন্যান্য দিনের মতো দুপুরের খাবার খেয়ে ইমন ও তার ভাই ইকবাল গ্রামের আমবাগানে গাছের পাতা ও ডালপালা কুড়াতে যায়। স্টেডিয়াম সংলগ্ন আমবাগানে পড়ে থাকা ককটেলকে কৌটা মনে করে ইমন পা দিয়ে নাড়াচাড়া করতে গেলেই বিকট শব্দে তা বিস্ফোরিত হয়। এতে ইমনের বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম হয়। ওই সময় পাশে থাকা ইকবালও আহত হয়।
স্থানীয়রা জানায়, বিকট শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা বাড়ি থেকে বের হয়ে বাগানের ভেতর ইমনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তারা দ্রুত ইমন ও ইকবালকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ইকবাল প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছাড়া পেলেও ইমনের অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে স্থানান্তরিত করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ইমনের বাবা আনারুল বলেন, ‘ককটেলের আঘাত শরীরের বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি বাম চোখের কালো মনির ওপরও লেগেছে। রাজশাহী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ৪-৫ জন ডাক্তার ছেলেকে দেখেছেন। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একদফা অপারেশনও করেছেন। এরপর ওষুধ লিখে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। চোখের ভেতরে আঘাত হওয়ায় তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবারও অপারেশন করতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ শিবগঞ্জ স্টেডিয়ামে ক্ষমতাসীন দলের দুটি সংগঠন একই সময় সমাবেশ আহ্বান করায় উপজেলা প্রশাসন সেখানে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। এ ঘটনার পরের দিন স্টেডিয়ামের পাশের আমবাগানে পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয় ইমন।
ইমন বাম চোখে আবছা দেখছে এবং চোখ অনবরত খচখচ করছে উল্লেখ করে দরিদ্র ভ্যানচালক আনারুল বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে ২১ দিন ধরে দৌড়ের ওপর আছি। এতদিন ভ্যান চালিয়ে কোনোরকমে পাঁচজনের মুখে আহার জোগাতে পারলেও এখন করুণ অবস্থা। বাড়ি ভাড়া দিতে পারিনি। গত মাসের কারেন্ট বিলও দিতে পারিনি।’
শিবগঞ্জ থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের হোসেন বলেন, ওই ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।