ডিসির গাড়িচালককে পেটাল কনস্টেবল

গাজীপুরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) গাড়িচালক মো. হিরা মিয়াকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক পুলিশের দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের রানী বিলাসমনি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

পরে পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবিতে জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা শহরের রাজবাড়ি সড়ক অবরোধ করেন। সেখানে আধা ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন। ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত সরকারি পরিবহন পুলের যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় কর্মচারীদের নেতা রফিকুল ইসলাম, সিরাজউদ্দৌলা, আজহারুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চালকের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। অভিযুক্ত কনস্টেবল ইউসুফ আলী ও নুর মোহাম্মদকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আন্দোলনকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গাজীপুরের জেলা প্রশাসনের স্টিকারযুক্ত গাড়িতে তার দুই শিশুকন্যাকে স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন চালক হিরা মিয়া। দুপুর ১২টার দিকে শহরের রানী বিলাসমনি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মোড়ে এলে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ গাড়িটি ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা ব্যবহার করতে বলেন। এ সময় হিরা মিয়া তাদের জানান, গাড়িতে জেলা প্রশাসকের দুই মেয়ে রয়েছে। এ কথা বলার পর ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বলেন, ‘ডিসির গাড়ি হয়েছে তো কী হয়েছে? আইন সবার জন্যই সমান। আপনাকে রাস্তা ঘুরে যেতে হবে। আমরা রাস্তায় রোদে দাঁড়িয়ে ডিউটি করি, আপনারা যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে যাবেন, এটা হবে না।’ জবাবে হিরা মিয়া বলেন, ‘আপনাদের কাজই রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করা।’ এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে হিরা ও গাড়িতে আঘাত করা হয়। তাকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর চেষ্টা করেন কনস্টেবল ইউসুফ আলী ও নুর মোহাম্মদ। এ সময় ডিসির দুই মেয়ে চালককে মারধর না করার জন্য অনুরোধ করলেও পুলিশ সদস্যরা শোনেননি। আতঙ্কে তারা কান্নাকাটি করতে থাকে। পরে হিরা রাস্তা ঘুরে ডিসির বাসভবনে চলে যান। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান কার্যালয় থেকে দ্রুত বাসভবনে যান। সেখানে ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুনও হাজির হন।