রাজধানীর বংশাল মালিটোলায় একটি বাসায় নাসরিন জাহান বৃষ্টি (২০) নামে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে ছুরিকাঘাত করে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, কোনো কিছু খোয়া গেছে কিনা বিস্তারিত তদন্ত করছে তারা।
নাসরিনের বড় ভাই মো. মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কারখানা মালিক স্বামী জলিল মিয়ার সঙ্গে একমাত্র মেয়ে স্নিগ্ধাকে (১) নিয়ে মালিটোলার বাঁশপট্টিতে ৪৯ নম্বর বাসায় থাকেন নাসরিন।
রবিবার ইফতারের আগ মুহূর্তে দুর্বৃত্তরা তার বাসায় ঢুকে হাত-পা বেঁধে বাসার টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা বৃষ্টিকে ছুরিকাঘাতও করে। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে রাতেই ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আবার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আজ দুপুরে তাকে আবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তার পেটে দুইটি ছুরিকাঘাত রয়েছে।
আহত নাসরিন অভিযোগ করে জানান, ৭ তলা বাড়িটির ২য় তলায় থাকেন তারা। গতকাল ইফতারের আগ মুহূর্তে তিনি তার রুমের দরজা বন্ধ করে বসে ছিলেন। তবে বাসার মেইন দরজা খোলা ছিল। এ সময় কয়েকজন বাসায় তাকে ভাবি ভাবি বলে ডেকে রুমের দরজা খুলতে বলে। তিনি দরজা খুলে দিলে ৫ ব্যক্তি মিলে তার হাত বেঁধে ফেলে, আর মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকে দেয়। তখন বাসার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে তারা। তাদের সবার মুখেই মাস্ক পরা ছিল। তাদের কাউকেই চিনতে পারেনি তিনি।
তাদের বাসায় এক রুমে মোহাম্মদ আলী নামে এক ড্রাইভার সাবলেট ভাড়া থাকে। সে এই ঘটনার সাথে কোনো ভাবে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, পারিবারিক কোনো কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া পাশের রুমে সাবলেট থাকা মোহাম্মদ আলী নামের ওই ব্যক্তির সাথে তাদের ঝগড়া চলছিল। বাসা থেকে লুটপাটের অভিযোগ করা হচ্ছে। কিছু খোয়া গেছে কিনা আমরা তদন্ত করে দেখছি। বিস্তারিত পরে বলা যাবে।