দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার হতে পারেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ। দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হঠকারী কর্মসূচি গ্রহণ ও তা পালন করার জন্য তাকে একবার শোকজ করা হয়েছিলো। তখন দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জবাব দেন শওকত মাহমুদ। এবার একই অপরাধে দ্বিতীয়বার তাকে শোকজ করা হয়েছিল। তিনি জবাব দিয়েছেন। এবার হয়তো তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সূত্র আরো জানায়, বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলন করলেও হঠকারী কোনো কর্মসূচি নেবে না। নির্বাচনকালীন বিএনপি চায় নিরপেক্ষ সরকার। তবে সরকারের বাইরে কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনকালীন সময়ে জাতীয় সরকার চায়। বিএনপি মনে করে এটি সরকারের একটি এজেন্ডা। তাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। নির্বাচনের পর হবে জাতীয় সরকার। দলের এমন সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে হঠকারী কর্মসূচি গ্রহণ করার অপরাধে শওকত মাহমুদকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
দলীয় শৃঙ্খখলা ভঙ্গের অভিযোগ শওকত মাহমুদকে শোকজ করা হয়েছিলো গত ৬ এপ্রিল। সোমবার তিনি শোকজের জবাব বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
সোমবার দেশ রূপান্তরকে শওকত মাহমুদ বলেন, ‘আমাকে দল থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তার জবাব দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এক পৃষ্ঠায় জবাব দিয়েছি।’
চিঠিতে কী লিখেছেন জানতে চাইলে শওকত মাহমুদ বলেন, ‘দল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানাতে চাই না। আগে দেখি দল কী সিদ্ধান্ত নেয়।’
গত ২৭ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পেশাজীবী সমাজ’ ব্যানারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এক সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে শওকত মাহমুদকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। স্থায়ী কমিটির এক সভায় এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে শওকত মাহমুদ শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
২০১৬ সাল থেকে বিএনপিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকা শওকত মাহমুদ বিএনপির সমর্থিত সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক।
এর আগে ২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
তখন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে ওই নোটিশ দেওয়া হয় তাকে এবং আরেক ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে। তবে তারা জবাব দেওয়ার পর তা মিটে গিয়েছিল।