ঘুষ লেনদেন মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন পেয়েছেন বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশের বরখাস্ত ডিআইজি (উপ-মহাপরিদর্শক) মিজানুর রহমান। আইনজীবীর মাধ্যমে তার করা জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মিজানকে দুই মাসের জামিন দেয়। আদালতে মিজানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব শফিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
এ মামলায় জামিন পেলেও মিজানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থাকায় তিনি এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না বলে দেশ রূপান্তরকে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মিজানুর রহমান তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নাসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২৪ জুন মামলা করে দুদক। পাশাপাশি মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু হয়।
তদন্ত করতে গিয়ে দুদক কর্মকর্তা (বর্তমানে বরখাস্ত) খন্দকার এনামুল বাছির মিজানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন ও অর্থ পাচারের মামলা হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সংশ্লিষ্ট একটি আদালত ঘুষ লেনদেনের মামলায় মিজানকে তিন বছরের সাজা দিলেও অর্থপাচারের মামলায় তাকে খালাস দেয়।
এ ছাড়া বাছিরকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে তিন বছর ও অর্থপাচারের অভিযোগে ৫ বছরসহ মোট আট বছর কারাদণ্ড দেয় আদালত।
সম্প্রতি সাজার আপিল ও জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মিজান। তার আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট।
মিজানের আইনজীবী মাহবুব শফিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিচারিক আদালত তাকে তিন বছরের সাজা দিয়েছিল। এ মামলায় আজ (বুধবার) দুই মাসের জামিন পেয়েছেন তিনি। তবে, দুদকের মামলা থাকায় তিনি এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেননা’।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তার (মিজান) বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা রয়েছে। এ মামলায় তিনি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাই জামিন পেলেও তার কারামুক্তি হচ্ছে না।’