রাজনীতিকদের প্রশ্রয়ে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি, বেলা ১১টা ২ মিনিট। রামদা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুই কিশোর ধাওয়া করছে তিন কিশোরকে। এ চিত্রটি ছিল নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের। কর্মব্যস্ত সময়ে প্রকাশ্যে কিশোরদের অস্ত্রের মহড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে। এ ঘটনার কয়েক দিন পর ৮ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আরেক সরকারি দপ্তর উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে সংঘর্ষে জড়ায় স্কুল ইউনিফর্ম ও সাধারণ পোশাক পরা দুই দল কিশোর। তাদের নিবৃত্ত করতে গিয়ে আহত হন শিবপুরের মফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন।

সচেতন সাধারণ নাগরিক হিসেবে কিশোরদের অস্ত্রের মহড়ার ওই দুটি ঘটনায় চরমভাবে মর্মাহত হন শিক্ষক আওলাদ হোসেন। তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে শিবপুর থানার ওসির কাছে অপরাধপ্রবণতা রোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অস্ত্রের মহড়ার সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ লিখিত আবেদন করেন। শিবপুরে সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাং সদস্যদের অস্ত্রের মহড়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়। তারপরও অস্ত্রধারী সেই কিশোরদের গ্রেপ্তারে পুলিশ উদ্যোগী হয়নি। আর পুলিশের এ নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। যার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত সোমবার রাতে প্রতিপক্ষ কিশোর সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে শেখ রাসেল শিশু-কিশোর স্মৃতি সংসদের শিবপুর পৌরসভা শাখার সভাপতি নাঈম মিয়াকে। নাঈম হত্যার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে শিবপুরে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া হয়ে ওঠার বিষয়টি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিবপুরে মূলত তিনটি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। ধানুয়া এলাকার আলী, শিবপুর বাজার এলাকার সাদ্দাম ও বান্দারদিয়া এলাকার সৈকত কিশোর গ্যাংগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা পান থেকে চুন খসলেই মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শিবপুরে মহড়া দেয়। স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের অংশগ্রহণ নিয়মিত।

কিশোর গ্যাং সদস্যরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধে জড়াচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূঁইয়া। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব কিশোর গ্যাং বিভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রছায়ার আড়ালে তাদের অপরাধকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের প্রয়োজনে রাজনীতিবিদরাও তাদের ব্যবহার করছেন। আমরা অবিলস্বে নাঈম হত্যার বিচার চাই আর যাদের ছত্রছায়ায় এসব কিশোর গ্যাং পরিচালিত হচ্ছে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, ‘শিবপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ রুখতে ইতিমধ্যে থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।’