বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের উপস্থিতিতে বহিরাগতদের অস্ত্র এনে শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিবাহিত নেতা বিপুল হোসাইন খান।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ওই নেতার শ্যালকের সঙ্গে ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ওই ছাত্রলীগ নেতা বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় বহিরাগতদের নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের জন্য শহিদ জিয়াউর রহমান হলে প্রবেশ করে। পরে বহিরাগতদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে বহিরাগত রকি। এ সময় জিয়া মোড় এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী হাসিব নামের এক শিক্ষার্থীর শরীরে বাইকের ধাক্কা লাগে। পরে ওই শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতার শ্যালককে কাছে ডেকে নেয়। ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালাতে নিষেধ করায় রকি ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে হাসিব ও রকির মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রলীগ নেতা বিপুল বিষয়টি অবহিত হয়ে ঘটনাস্থলে যায়।
এ সময় সাবিক জোয়ার্দার সহ কয়েকজন বহিরাগত নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা শহিদ জিয়াউর রহমান হলে প্রবেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবকে মারধরের জন্য হলে খুঁজতে থাকেন। এ সময় হাসিবের সহপাঠীরা একত্রিত হয়ে বিষয়টির প্রতিবাদ করে। একপর্যায়ে জিয়া মোড় এলাকায় প্রক্টরের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হত্যা হুমকিসহ বহিরাগতদের দেশীয় অস্ত্র (ডাসা) আনতে বলে বিপুল।
অস্ত্র আনার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এদিকে ঘটনার পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনায় বসে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে বহিরাগতের অবাধ চলাফেরা, নিজেদের নিরাপত্তাসহ বেশ কয়েকটি দাবির কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়গুলি সমাধানের কথা বলেন।
মারধরের শিকার হওয়া হাসিবের হাত ফেটে যাওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
এ বিষয়ে হাসিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানোর নিষেধ করায় আমার ওপর চড়াও হয় বহিরাগত রকি। একপর্যায়ে আমাকে মারধর করে। এমন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই আমি।’
এর আগে গত সোমবার (১১ এপ্রিল) জিয়া মোড় এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সুজন আহমেদকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগ নেতা বিপুল হোসাইন খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকাশ্যে অস্ত্র আনার কথা ও হত্যা করতে চাওয়ার বিষয়টিকে আমরা ভালো ভাবে নিচ্ছি না। গতকালের বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। বহিরাগত কয়েকজনের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’