হাজার হাজার ডলার খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করেও আওয়ামী সরকার তার মরণঘাতী দুঃশাসনের বিভীষিকা আড়াল করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, গুম, খুন অপহরণ করে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে গণতন্ত্রকামী জনগণের পেছনে লেলিয়ে দিয়ে কিংবা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করে দেশের জনগণের কাছে তাদের অপকর্ম আড়াল করতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশিত বাংলাদেশের মানবাধিকার রিপোর্টে দেখা যায়, কোনো অপকর্মই সরকার আড়াল করতে পারেনি।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, 'বাস্তবতা হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের কবর রচনা করতেই নিশিরাতের সরকার দেশের আইন-আদালতকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করে 'মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রেখেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। এমনকি তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান- যিনি রাজনীতির সঙ্গে বিন্দুমাত্র যুক্ত নন। তার বিরুদ্ধেও অসত্য ও কাল্পনিক মামলা দায়ের করে সেটি এখনো চালু রাখা হয়েছে। এগুলো সবই সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা।
তিনি বলেন, বিনা ভোটের সরকার বন্দুকের জোরে র্যাব-পুলিশ কিংবা আদালতকে ব্যবহার করে যতই অপপ্রচার চালাক, দেশে বিদেশে কেউ এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত নয়।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ইফতার মাহফিলেও তারা নারকীয় হামলা চালাচ্ছে। টলটলায়মান গদি যেকোনো সময় তাসের ঘরের মতো পড়ে যেতে পারার সম্ভাবনায় আওয়ামী সরকার এখন বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। গতকালও প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন-মেগা প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবতা হলো-বিভ্রান্তি নয়, অভিনব নজিরবিহীন দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত মেগা প্রকল্প নিয়ে সত্য কথাই আজ দেশ-বিদেশে বলাবলি হচ্ছে। এই মেগা প্রকল্পের নামে লাখ লাখ কোটি টাকা যে লুটপাট হচ্ছে তা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কার মতোই ধাপে ধাপে দেউলিয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল পলাশে ঘোড়াশাল পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে এতিম ও ছাত্রদের জন্য ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা এসে বুধবার সকালে ব্যাপক হামলা চালিয়ে বিএনপির প্যান্ডেল দখল করে নেয়। এ সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এতিমদের জিম্মি করে রাখে। এই ভয়ংকর সন্ত্রাসী পরিস্থিতি দেখে এলাকাবাসী বলাবলি করছিল যে, সরকার কি এখন দেশের মানুষকে ইফতারও করতে দেবে না?
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন।