ইজারা জুলুমে মাছ বাজারে ধর্মঘট, ভোগান্তিতে ক্রেতা

ইজারাদারের অন্যায্য টোল (খাজনা) দাবি ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গত তিন দিন ধরে কিশোরগঞ্জের সব কয়টি মাছ বাজারে ধর্মঘট চলছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য মাছ বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন। এর ফলে কিশোরগঞ্জ শহরের তিনটিসহ উপজেলার সব কয়টি বাজারে তিন দিন ধরে মাছ বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতাসাধারণ।

মাছ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মাছের প্রতি ডালা সরকারিভাবে দৈনিক ৫ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও আমরা ১০ টাকা করে দিচ্ছি। কিন্তু ইজারাদাররা তাও মানতে নারাজ। তারা আমাদের কাছে ডালাপ্রতি ২০০ টাকা দাবি করছেন। গত বৃহস্পতিবার এ নিয়ে ইজারাদারের লোকজনের সঙ্গে মাছ ব্যবসায়ীদের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ইজারাদারের লোকজন মাছ ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করে। এতে ৭-৮ জন ব্যবসায়ী আহত হন। এর প্রতিবাদে বিকেলে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন মাছ ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাছ বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে বন্ধ ঘোষণার ফলে বৃহস্পতিবার থেকেই শহরের বড়বাজার, পুরান থানা ও কাচারী বাজারসহ সদর উপজেলার সব কয়টি মাছমহালে মাছ বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বাজারে মাছ না পেয়ে ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। বিশেষ করে রমজান মাস হওয়ায় এ ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

কিশোরগঞ্জ শহর মাছ বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুকছেদ মিয়া বলেন, ‘আমরা শুক্রবার জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি কিশোরগঞ্জ পৌর মেয়রকে বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো তার কোনো সমাধান হয়নি বলে আমরা মাছ বিক্রি বন্ধ রেখেছি।’

বড়বাজার মাছমহালের ইজারাদার সাবেক কাউন্সিলর মো. আরজু মিয়া বলেন, ‘মাছমহালটি ভ্যাটসহ ২৫ লাখ টাকায় আমরা ইজারা নিয়েছি। পহেলা বৈশাখ থেকে টোল তুলতে গেলে ব্যবসায়ীরা ডালাপ্রতি ৫ টাকার বেশি ইজারা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ডালাপ্রতি ৫ টাকা করে আদায় করলে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আদায় হবে। অথচ ইজারা ডাক হয়েছে ২৫ লাখ টাকায়। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে লোকজনের তর্কবিতর্ক হয়।’ তিনি দাবি করেন, ‘গত বছর মাছ ব্যবসায়ীরা নিজেরাই ইজারা নিয়ে বিনা রসিদে ১৫০-২০০ টাকা আদায় করেছেন। কিন্তু এবার দরপত্রের মাধ্যমে বাজার না পেয়ে তারা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।’

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. পারভেজ মিয়া বলেন, ‘শিডিউল অনুযায়ী যে রেটে টাকা তোলার কথা, সে রেটেই টাকা তুলতে হবে। এ বিষয়ে দুইপক্ষকে রবিবার (আজ) পৌরসভা কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। সেখানেই মীমাংসা হবে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে পৌর মেয়রকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। নির্ধারিত রেটের বাইরে টাকা নিলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’