বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় ও লুম্বিনি লিমিটেডের সঙ্গে আইইউবি’র সমঝোতা স্মারক

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লুম্বিনি লিমিটেডের ভাষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। 

বুধবার বান্দরবান পার্বত্য জেলা সদরে অবস্থিত বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আইইউবির উপাচার্য ড. তানভীর হাসান, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. ইমাম আলী; এবং লুম্বিনি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. সুলতান উদ্দিন ইকবাল সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। 

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লুম্বিনি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত মোশাররফ খান।

প্রথম সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হয় আইইউবি এবং বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। 

এতে বলা হয়, পার্বত্য তিন জেলার বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর লুপ্তপ্রায় ভাষা সংরক্ষণে আইইউবির সেন্টার ফর এনডেনজারড ল্যাংগুয়েজেস-এর সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়। এই সেন্টার ফর এনডেনজারড ল্যাংগুয়েজেস আইইউবি'র সাশিন সেন্টার ফর মাল্টিলিংগুয়াল এক্সেলেন্স-এর অন্তর্গত একটি স্বতন্ত্র বিভাগ। পাশাপাশি, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দক্ষতা উন্নয়নেও সহযোগিতা করবে আইইউবি। 

আরেকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় আইইউবি, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় এবং লুম্বিনি লিমিটেড-এর মধ্যে। এতে বলা হয়, বান্দরবানভিত্তিক তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লুম্বিনি লিমিটেড-এর পৃষ্ঠপোষকতায়, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন বাছাইকৃত নারী শিক্ষার্থী প্রতি বছর দুটি করে সেমেস্টার ঢাকায় অবস্থিত আইইউবি ক্যাম্পাসে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন শিক্ষার্থীকে হবেন কোনো একটি নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়ে এই কার্যক্রম চলবে পরবর্তী চার বছর। 

এ ছাড়া প্রতি বছর বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন করে শিক্ষার্থী লুম্বিনি লিমিটেড-এ ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাবে। এ খাতে প্রতিবছর প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য আড়াই লাখ টাকা করে মোট পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেবে লুম্বিনি লিমিটেড।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে, বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের মধ্যে পড়াশোনার ব্যপারে আগ্রহ আছে। কিন্তু সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটানো তাদের অনেকের পরিবারের পক্ষেই কঠিন। শিক্ষাটা যদি তাদের ঘরের দুয়ারে পৌঁছানো যায়, তাহলে এখানকার ছেলেমেয়রা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে।  সেই উদ্দেশ্যেই বান্দরবানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। তবে আমরা যারা এর সঙ্গে যুক্ত আছি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে অভিজ্ঞতা কম। তাই, আইইউবির মতো দেশের প্রথম সারির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করলে আমাদের পক্ষে সঠিক রাস্তায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। 

আইইউবির উপাচার্য তানভীর হাসান বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং মাতৃভাষাই শিক্ষার মূল বাহন হওয়া উচিৎ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই মারমা, চাকমা এবং ত্রিপুরা ভাষায় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু, এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর অনেক ভাষা রয়েছে যে ভাষাগুলোকে এখনো শিক্ষাদানের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে সেই ভাষাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে এরকম একটা আশঙ্কা রয়েছে। এই চিন্তা থেকেই, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লুপ্তপ্রায় ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে, সেন্টার ফর এনডেনজার্ড ল্যাংগুয়েজেস প্রতিষ্ঠা করেছে।

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. ইমাম আলী বলেন, আইইউবি যে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার কথা বলছে, এই সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় সেই চিন্তাকে ধারণ করতে চায়। আমরা শুধু শিক্ষার্থীদের সনদপত্র দিতে চাই না, আমরা চাই তাদেরকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে। এর পাশাপাশি, আমরা চাই তাদের মধ্যে যেন মানবিক গুণাবলিরও বিকাশ ঘটে। এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি হবে। 

লুম্বিনি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. সুলতান উদ্দিন ইকবাল বলেন, আজকে যে সমঝোতা স্মারকগুলো আমরা স্বাক্ষর করলাম, তার মাধ্যমে বান্দরবান জেলায় নারীর ক্ষমতায়নে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে (পিপিপি) প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়। পাবর্ত্য তিন জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। বর্তমানে বান্দরবান পৌর শহরে অবস্থিত অস্থায়ী ক্যাম্পাসে তিনটি অনুষদের অধীনে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ব্যবসায় প্রশাসন এবং ইংরেজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। জেলা সদরের প্রবেশমুখে সুয়ালক এলাকায় ১০০ একর জমির উপর বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।