বৈষম্যমূলক আচরণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান

বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য বৈষম্যমূলক আচরণকে ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন এই আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, কোনো আইনে ‘ক্রিমিনাল প্রভিশন’ না থাকলে এটি প্রকৃতপক্ষে আইন হয় না।

গতকাল রবিবার প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইনের উল্লেখযোগ্য অংশগুলো নিয়ে অনুষ্ঠিত এক ওয়েবিনারে এসব কথা উঠে এসেছে। ওয়েবিনারে অংশ নেন আইনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা। ওয়েবিনারের আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপ্রধান শহীদুজ্জামান সরকার। তিনি আয়োজকদের এই অনুষ্ঠানের সব সুপারিশমালা স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে পাঠানোর অনুরোধ করেন। যাতে করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে পারেন। উল্লেখ, নাগরিক সমাজ, আইন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়ায় বৈষম্যমূলক আচরণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনা করা হয়েছে এবং পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। কিন্তু উপস্থাপিত বিলে শাস্তির কোনো বিধান রাখা হয়নি।

ওয়েবিনারে আরও কথা বলেন, দলিত নেতা মিলন বিশ্বাস, এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এসডিজি প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, চাকমা সার্কেলের চিফ রাজা দেবাশীষ রায়, সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী প্রধান জাকির হোসেন, বেসরকারি সংস্থা ব্লাস্টের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার সারা হোসেনসহ আরও অনেকে। 

এমজেএফ বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে ২০০৮ সাল থেকে জড়িত। সঙ্গে ছিল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ, নাগরিক উদ্যোগ, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, আদিবাসী ফোরাম, ব্লাস্টসহ ১৫টি দলিত সংগঠন।