আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
দ্বিতীয় অধ্যায় : ইবাদত
বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১. ইবাদতের তাৎপর্য বর্ণনা করো।
উত্তর : আল্লাহতায়ালা আমাদের সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁরই ইবাদতের জন্য। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আর আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। (সূরা যারিয়াত, আয়াত : ৫৬)
ইবাদত শুধু সালাত, সাওম ইত্যাদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য রাসুল (স)-এর দেখানো পথে যেকোনো ভালো কাজই ইবাদতের মধ্যে শামিল। ভালো কাজের উৎসাহ দেওয়াও ইবাদত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পরামর্শ দেয়, সে ব্যক্তিও কাজটি সম্পাদনকারীর সমান পুরস্কার পাবে।’ (মুসলিম)।
সর্বাবস্থায় আমাদের ইবাদতে মশগুল থাকা কর্তব্য। সর্বাবস্থায় ইবাদতে মশগুল থাকাও খুব সহজ একজন মুমিনের পক্ষে। বিসমিল্লাহ বলে যেকোনো কাজ শুরু করলে যতক্ষণ আমরা কাজটি করব, ততক্ষণ সময়ই ইবাদত বলে গণ্য হবে। আমরা যদি বিসমিল্লাহ বলে হালাল খাবার খাই, খাওয়ার পর শুকরিয়া আদায় করি তাহলে খাওয়ার সময়টুকু ইবাদত বলে গণ্য হবে। পড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলে পড়া শুরু করলে যতক্ষণ লেখাপড়া করব, ততক্ষণই ইবাদতের মধ্যে গণ্য হবে। বিসমিল্লাহ বলে স্কুলে যাত্রা শুরু করলে আল্লাহতায়ালা আমাদের রাস্তার বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবেন। জ্ঞান অর্জনের পথে আমাদের এ যাত্রাও ইবাদত বলে গণ্য হবে। সৎপথে ব্যবসা-বাণিজ্য করা, চাষাবাদ এবং অন্য কোনো সৎ পেশায় নিয়োজিত হয়ে যথাযথ কর্তব্য পালন করাও ইবাদতের শামিল। এমনকি ঘুমানোর আগে পাক-পবিত্র হয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে ঘুমালে নিদ্রার সময়টুকুও আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে গণ্য হবে। এভাবে আমরা সর্বক্ষণই আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতে পারি। ইবাদতে আল্লাহতায়ালা খুশি হন। এতে দুনিয়ার জীবন সুখের হয়। পরকালে শান্তিময় স্থান জান্নাত লাভ করা যায়। যারা ইবাদত করে না, আল্লাহর পথে চলে না তাদের প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। তারা দুনিয়াতে শান্তি লাভ করতে পারে না। মৃত্যুর পরে তাদের জাহান্নামে কঠিন শাস্তিভোগ করতে হবে। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। তাই আমাদের উচিত সর্বক্ষণ তার ইবাদতে মগ্ন থাকার চেষ্টা করা।