ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তৃতীয় পক্ষ জড়িত উল্লেখ করে আজ বুধবার থেকে দোকানপাট খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি।
ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চান অভিমত ব্যক্ত করে সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহিন বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়েছেন।
তার ঘোষণার পর পরেই ছাত্ররা তাদের দাবি পূরণের আগে দোকান খুললে কঠোর কর্মসূচি নেবেন বলে জানান। শিক্ষার্থীরা তাদের হুঁশিয়ারি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। এ সময়ে নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদেরও অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ঢাকা কলেজের হল বন্ধ রেখে নিউমার্কেট খুলে দেওয়ার খবর জানতে পেরে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে ঢাকা কলেজের মূল ফটকে জড়ো হতে থাকেন। গত দুদিন ধরে চলা সংঘর্ষের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না করে হুটহাট নিউমার্কেট খোলার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না করে নিউমার্কেটের কোনো দোকান খোলা যাবে না। ফলে মিরপুর রোডে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার শরিফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি ঢাকা কলেজের ভেতরে ছয়টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এ সংবাদ পাওয়ার পর আমরা সেখানে যাচ্ছি। যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।’
উল্লেখ্য, সোমবার মধ্যরাতে নিউমার্কেটের দোকানমালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। এর জেরে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে এক পথচারী নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই পক্ষ সড়ক ছেড়ে যাওয়ার পর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ পরিস্থিতিতে নিউমার্কেট দোকান সমিতি আজ সকালে জানিয়েছিল, দোকান খোলা হবে না। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় দোকান খোলার সিদ্ধান্ত জানায় মালিক সমিতি। এরপর বিকেলে অনেক দোকান খুলতে দেখা যায়। এরপরই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।