ক্লাসে ধর্ম অবমাননার বক্তব্য দেননি হৃদয় মণ্ডল: তদন্ত কমিটি

মুন্সিগঞ্জে বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা শ্রেণিকক্ষে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি।

জেলার বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর গঠিত তদন্ত কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে।

কমিটি জানিয়েছে, শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল ধর্ম অবমাননাকর কোনো বক্তব্য দেননি। প্রাইভেট পড়ানোর কারণে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নেহাল আহমেদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হাই তালুকদার।

এ ঘটনায় গত ১০ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

বুধবার বিকেলে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হাই তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তদন্ত করে দেখা গেছে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল ধর্ম অবমাননাকর কোনো বক্তব্য দেননি। এটি প্রমাণিত হয়েছে। প্রাইভেট পড়ানোর কারণে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। একই শ্রেণির বিজ্ঞান ও গণিতের প্রতিপক্ষ শিক্ষক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি নির্দোষ।’

তিনি আরও বলেন, যে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের বক্তব্য রেকর্ড করেছিলেন তাদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্কুলে মোবাইল আনা নিষিদ্ধ। তবুও একজন ছাত্র কেন শিক্ষকের কথোপকথন রেকর্ড করেছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্ররা সদুত্তর দিতে পারেনি। তারা দাবি করেছে- ভুলে রেকর্ড করেছে। কিন্তু ভুলে যে রেকর্ড করেনি এর প্রমাণ তদন্ত কমিটি পেয়েছে।

গত ১২ এপ্রিল সরেজমিন স্কুলে গিয়ে শিক্ষক, ছাত্র, কর্মচারী, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা হয়। তারপর ধাপে ধাপে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে সত্য ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। আমিও ধারণা করেছিলাম, আমার প্রতিপক্ষ শিক্ষক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।’