জার্মান রাষ্ট্রদূতকে কোট করা হয়নি, এটি ছিল জেনারেল স্টেটমেন্ট: খসরু

জার্মান রাষ্ট্রদূত আশিম ট্র্যোস্টারের নাম উল্লেখ করে কোনো কোট করা হয়নি বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জার্মান রাষ্ট্রদূতের ‘ভুলভাবে উদ্ধৃত’ করার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেছেন, আমরা ওই দিন কি বলেছি এটাতো বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনে এসেছে। এটাতো একেবারেই পরিষ্কার। আমরা ওনাকে কোট করে কিছুই বলিনি। আমরা আমাদের কথা বলেছি। আমরা যেটা বলেছি এটা ছিল জেনারেল স্টেটমেন্ট। আমরা বলেছি, বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো আমাদের দেশের মানবাধিকার, নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বুধবার রাষ্ট্রদূতের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সংবাদমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক দেশ বাংলাদেশের মানবাধিকার, নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আর বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশ যে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এটাতো কোনো লুকোচুরির কিছু না।

এর আগে বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিক্যাব টক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জার্মান রাষ্ট্রদূত আশিম ট্র্যোস্টার জানান, তাকে বিএনপির নেতারা ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছেন যাতে করে তিনি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি একজন পেশাদার। আমি মোটেই হতাশ নই। আমি পড়েছি (খবরের কাগজে), বিএনপি আমাকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে যে বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এটি সত্য নয়। কথাটি এভাবে সত্য নয়। কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নয়, আমি সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

আশিম ট্র্যোস্টার বলেন, আমাকে বিএনপি যেভাবে উদ্ধৃত করেছে তাতে আমি অসন্তুষ্ট। আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছি, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। তবে বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার ছিল। কোনো দেশই বিদেশি দূতদের দ্বারা সমালোচিত হতে চায় না। আমি আমার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করি, এখানকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য নই। অন্তত জনসম্মুখে তো নয়ই।

উল্লেখ্য, গত ১৭ই মার্চ গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।