যেকোনো শর্তে ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসতে সম্মত হয়েছে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তারা চান, যেভাবেই হোক সমস্যার সমাধান হোক। ঈদের মার্কেট ধরতে না পারলে ব্যবসায় ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
তবে, ব্যবসায়ীদের এমন মনোভাবের পর বুধবার রাত ৮টার দিকে ডাকা শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনের সময় পরিবর্তন করে রাত ৯টায় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু, না-জানা কারণে সেই সংবাদ সম্মেলনটিও অনুষ্ঠিত হয়নি।
সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন হতে পারে। আজ রাতে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের জন্য বসলেও সেটি আর হয়নি। কিন্তু কেন হয়নি এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি।
তবে সম্মেলনে যোগ দিতে আসা এক ছাত্রলীগ কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়ররা আসার কথা থাকলেও তারা আসেননি। ফলে শুরু করতে পারছি না আমরা। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন হতে পারে বলেও জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে কলেজ প্রশাসনের পক্ষে ঢাকা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস সিকদার এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আলতাফ হোসেন জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে ছাত্রনেতারা একটি পক্ষ। আর শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে আমরা একটি পক্ষ। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ছাত্রদের দাবিগুলো জেনে নেব।
অন্যদিকে, দীর্ঘসময় সংবাদকর্মীদের অপেক্ষায় রাখায় সংবাদ সম্মেলন বর্জন করেছেন তারা।
গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় তাদের। একপর্যায়ে তারা সংবাদ সম্মেলন বর্জন করে বের হয়ে আসেন। এ ছাড়া আয়োজকেরা কখন শুরু হতে পরে সে বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।
এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর ঢাকা কলেজের টেনিস গ্রাউন্ডের সামনে পরপর ছয়টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর পরপরই শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় কলেজ প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। বিকেলে কিছু সংখ্যক দোকান খোলার চেষ্টা করা হলেও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তা বন্ধ করা হয়।
অন্যদিকে সংঘর্ষ-সংঘাত থেকে সরে এসে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং ব্যবসার পরিবেশ তৈরিতে সাদা পতাকা উড়িয়েছেন নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা। বুধবার মার্কেটের প্রতিটি ফটকে টাঙানো হয় এই সাদা পতাকা।
মার্কেট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘আর কোনো সংঘাত নয়, আমরা দোকান খুলতে চাই। ব্যবসার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ চাই। এ বছর ঈদের বাজার ধরতে না পারলে পুঁজি চলে যাবে।’