‘পদ্মাপুরান’ সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনায় আসেন সাদিয়া আফরিন মাহি। নতুন কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।
কেমন আছেন?
ভালো আছি। সময়টা বেশ ভালো যাচ্ছে। নতুন কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। আমার সন্তান ছোট হওয়ায় তেমন কাজ করছি না। তারপরও দুটি বিজ্ঞাপনে করেছি। ইভান মনোয়ারের দুটি ফিকশনে কাজ করার কথা রয়েছে।
নতুন কাজ নিয়ে জানতে চাই…
নতুন কাজটা নিয়ে বলার আগে বলতে চাই, পরিচালক ইভান মনোয়ারের সঙ্গে আমার পরিচয় তিন বছর ধরে। গত তিন বছর ধরেই তার সঙ্গে প্রজেক্ট করার বিষয়ে কথা চলছিল। সে যে গল্প পছন্দ করছিল সেটা আমার হয়তো ভালো লাগছিল না। আবার গল্প পছন্দ হলে আমি সময় দিতে পারছিলাম না। এর ভেতরে আমি সিনেমা করলাম, আমার বাচ্চা হলো। সব মিলিয়েই ওর সঙ্গে কাজ করব করব করে আর করা হচ্ছিল না। এবার ব্যাটেবলে মিলে যাওয়ায় কাজটা করছি। আর গল্পটা ভিন্ন ধরনের। গতানুগতিক কাজ করতে চাইনি কখনো। এ কারণে আলাদা ধাঁচের সিনেমা করেছি। ওই জায়গা থেকে ইভানের নতুন গল্পটা আমাকে টানে। আমি তাকে বলি আমি যেভাবেই হোক প্রজেক্টটা করব। কারণ গল্পটা আমার খুব ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়েছে এই ক্যারেক্টারটা আমার জন্য। এই ক্যারেক্টারে কাজ করতে চাই।
প্রথম সিনেমায় কাজ করেই বেশ সাড়া পেয়েছেন। ‘পদ্মাপুরান’ এ কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাই…
আমার প্রথম ছবি রাশিদ পলাশের ‘পদ্মাপুরান’ মুক্তি পেয়েছে গত বছরের শেষের দিকে। আলহামদু লিল্লাহ, এখনো রেসপন্স পাচ্ছি। এতটা আশা করিনি। খুব ভালো রেসপন্স পেয়েছি। ‘পদ্মাপুরানে’ কাজ করতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। শুটিংয়ের প্রয়োজনে চুলও ফেলে দিতে হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই চুল ফেলতে অনেক খারাপ লেগেছিল। কিন্তু কাজটা তো করতে হবে। তো সব মিলিয়ে দুঃখ কষ্ট ছাপিয়েই চুলটা ফেলে দিতে হয়েছে।
মেয়ের নাম কেন ‘পদ্মা’ রাখলেন?
মেয়ের নাম ‘পদ্মা’ রাখার কারণ হচ্ছে ‘পদ্মাপুরান’ ছবিতে প্রেগন্যান্ট মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। সিনেমার রিলিজের আগে বাস্তবেও প্রেগন্যান্ট হয়েছি। আবার সিনেমা রিলিজের যে ডেট দেওয়া ছিল আমার মেয়ের ডেলিভারি ডেটও ওইটাই ছিল। সব মিলিয়েই মেয়ের নাম ‘পদ্মা’ রেখেছি সিনেমার নামে। পরিবারের অন্যরাও স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন নামটি। যদিও পরিবারের অন্যরা একেক নামে ডাকে আমার মেয়েকে।
শিল্পীরা আগের মতো সম্মান পাচ্ছেন না তার কারণ কি?
এখন আগের মতো শিল্পীরা সম্মান পাচ্ছেন না, কারণ তো অনেক কিছুই রয়েছে। আগে যে ব্যাপারগুলো ছিল সেখান থেকে সরে এসেছি আমরা। আমরা নিজেদের সস্তা করে ফেলছি। আমাদের শিল্পীদের এখন সহজেই পাওয়া যায়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকে পাওয়া যায়। আগের মতো টিকেট কেটে দেখার ব্যাপার ছাড়াও অন্য মাধ্যমেও দেখা যায় শিল্পীদের। একজন সাধারণ মানুষও টিকটক করছে শিল্পীরাও টিকটক করছে। সব মিলিয়ে আমরা শিল্পীরা নিজেদের খুব সস্তা করে ফেলেছি। এ কারণে এখন শিল্পীরা আগের মতো সম্মান পাচ্ছেন না।
৭ বছরের জার্নিতে কেমন বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে?
ক্যারিয়ারের ৭ বছরের জার্নি আমার খুবই ভালো ছিল। নিজেকে আমি খুবই লাকি বলব যে আমাকে খুব বেশি স্ট্রাগল করতে হয়নি। ৭ বছর অনেক সময়। কিন্তু তেমন বাধা বিপত্তি অতিক্রম করতে হয়নি। আমি যা করতে চেয়েছি আলহামদু লিল্লাহ করতে পেরেছি। আমি র্যাম্পে হেটেছি, বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি, উপস্থাপনা করেছি। সিনেমাও করলাম। সামনে আরও কাজ করতে যাচ্ছি। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের জার্নি খুব ভালোই বলব।