ঘুষি মেরে দাঁত ভেঙে ফেলার জেরে পুলিশ কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

গাজীপুরের শ্রীপুরের ঘুষি মেরে এক ব্যক্তির দাঁত ভেঙে ফেলার জেরে পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েক সদস্যকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে অন্য পুলিশ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে। 

শুক্রবার বিকালে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

তবে পুলিশ বলছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না তারা যাচাই করছেন। 

দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান শ্রীপুর মডেল থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন।

পুলিশের ঘুষিতে আহত ব্যক্তির নাম রাইস উদ্দীন (৪০) তিনি ওই গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে শ্রীপুর মডেল থানার এএসআই শাহিনুর রহমানসহ কয়েক সদস্য আসেন একটি জমির ঝামেলা সমাধানের জন্য। স্থানীয় বাসিন্দা রাইস উদ্দীন তার জমি বিক্রি করলে ক্রেতার সঙ্গে সামান্য দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পরে একপর্যায়ে এএসআই শাহীনুর রহমান ক্ষেপে যান। এর জেরে রাইস উদ্দীনকে ঘুষি মারেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। এতে জমির মালিক রাইস উদ্দীনের সামনের একটি দাঁত ভেঙে রক্ত ঝরতে থাকে। পুলিশের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। এ সময় উত্তেজিত জনতা দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে পুলিশদের। অবস্থা খারাপ দেখে পুলিশ জনতার রোষানল থেকে বাঁচতে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে খবর পেয়ে অন্য পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের ভুল বুঝাবুঝির কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। রাইস উদ্দীন জমি বিক্রি করে ক্রেতাকে বুৃঝিয়ে দিচ্ছে না এমন অভিযোগ করলে জমি ক্রেতার পক্ষে পুলিশ ঘটনাস্থল আসে। পুলিশ সদস্যরা রাইস উদ্দীনের বাড়ির সামনের একটি দোকানে বসে এ নিয়ে কথা বলছিলেন। এক সময় পুলিশ সদস্য জমি বিক্রির স্ট্যাম্প প্রদর্শন করার পর রাইস উদ্দীন ক্ষিপ্ত হয়ে যান। এর জেরে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে পুলিশের এসআই শাহিনুর রাইস উদ্দিনের ওপর চড়াও হন। 

শ্রীপুর থানার (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, সম্পূর্ণ ঘটনাটি এখনো আমরা স্পষ্ট হতে পারিনি। সেখানে যা ঘটে থাকুক, আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ কোনো অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল যাবে। বিষয়টি আমরা আরো বিস্তারিত খোঁজখবর করছি। পুলিশের দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।