রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহত শ্রমিকদের স্মরণ করেছেন তাদের স্বজন ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

শনিবার সন্ধ্যায় সাভারের রানা প্লাজার সামনে অবস্থিত অস্থায়ী বেদিতে এই মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শ্রমিকদের পরিবার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি রানা প্লাজার ট্র্যাজেডির সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রতি বছর এই দিনে আমরা নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করি। সেই সঙ্গে কিছু দাবি আমরা তুলে ধরি।

তিনি বলেন, আমাদের দাবির মধ্যে আছে, ২৪ এপ্রিলকে জাতীয়ভাবে শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণা করা, রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা, রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং হতাহত শ্রমিকদের এক জীবনের আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। আমাদের এই দীর্ঘদিনের দাবির কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহত হন অন্তত ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক, আহত হন ২ হাজার ৪৩৮ জন শ্রমিক।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এত দিনে কেবল মামলার বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ কাটিয়ে মাস তিনেক আগে শুরু হয় এ মামলার বিচার।

গত ১১ এপ্রিল ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলার বাদী পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের উপপরিদর্শক ওয়ালি আশরাফের সাক্ষ্য শেষ হয়।

আগামী ২৯ মে আদালতে এসে সাক্ষ্য দিতে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ইকরামুল হক, শিউলি আক্তারসহ পাঁচজনকে পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে।