কার্যক্রমে ধীর গতি, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের টিকিট

রবিবার দ্বিতীয় দিনের মত ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেছে রেলওয়ে। নির্দিষ্ট আসনের অর্ধেক টিকিট বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে আর অর্ধেক স্টেশনে।

সকালে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে টিকিট প্রত্যাশীদের লম্বা লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউবা আবার লাইনে বসেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। একই অবস্থা ছিল নারীদের লাইনে।

টিকিট দেয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে এসির টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ টিকিটপ্রত্যাশীদের। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত টিকিট।

শনিবার রাত থেকেই অনেক নারী যাত্রী টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকে আবার সেহরি খেয়ে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

সকাল ৯টায় টিকিটপ্রত্যাশী জেসমিন আক্তার বলেন, রাতে ২ টার দিকে সেহরি খেয়ে এসেছি। তবুও সামনে প্রায় ৬০-৭০ জন। কখন টিকিট পাবো জানি না। খুব ধীর গতিতে টিকিট দেয়া হচ্ছে।

এ সময় আরেক নারী যাত্রী বলেন, কতক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যায়। কখন ছেলেকে দাঁড় করাই আবার তাকে বসিয়ে নিজে দাঁড়াই। কাউন্টারের লোকজন যদি একটু দ্রুত কাজ করে আমাদের কষ্ট কম হয়।

অপরদিকে খবর রয়েছে, ভোটার আইডি ছাড়াই অনেকে টিকিট ক্রয় করতে পারছেন। এমন দুজন কাওসার ও আজিমের সঙ্গে দেশ রূপান্তরের কথা হলে তারা বলেন, আমরা ঢাকায় ট্রেনিংয়ের জন্য এসেছি। বাড়ি যাওয়ার জন্য কক্সবাজারের টিকিট কিনতে আমাদের কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা তার কপির প্রয়োজন হয়নি।

এদিকে কমলাপুর ছাড়া এয়ারপোর্টসহ আরও ২টি স্টেশনের গিয়ে টিকিট কাউন্টারে তেমন একটা ভিড় চোখে পড়েনি। তবে অনলাইনে টিকিট কেটেছে এমন যাত্রীরা টাকা পরিশোধ করেও তাদের প্রাপ্য টিকিট বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী নাজমুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিয়ম মেনে আজ সকালে অনলাইনে টিকিটের জন্য ৭৯০ টাকা পরিশোধ করি। এরপর স্টেশনে আসলে কাউন্টারের কর্মকর্তারা আমার টিকিট বুঝিয়ে দিতে পারেনি। উল্টো আমাকে বলছেন আপনার টিকিট কাটার নিয়ম প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না। এখন টিকিট না পেলে আগামী ৭ দিন পরে আপনার টাকা আপনাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে।

স্টেশন কর্মীদের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, তাদের কর্মযোগ্যে আমি রীতিমতো অবাক ও হেনস্তার স্বীকার হয়েছি। টাকা নেয়ার সময় তাদের কোনো ধরনের রং সিগন্যাল ছিল না। কিন্তু টিকিট নেয়ার সময় তাদের এমন আচরণ কোনো ভাবেই মানা যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মকর্তা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, আমাদের এখানে সকাল ৮টা থেকে টিকি বিক্রি শুরু হয়েছে। কিন্তু বেলা গড়িয়ে দুপুর ১২টা বাজার আগেই সকল টিকিট শেষ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে টিকিট দেওয়ার কারণে কিছুটা ধীর গতি হয়েছে। তবে আমরা এটুকু নিশ্চিত করেছি যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন তারাই যেন টিকিট পায়। এ জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে এর নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ে পুলিশসহ থানা-পুলিশ ও বিভিন্ন এজেন্সি আমাদের সহযোগিতা করছে। যাতে কোনোভাবেই এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ উত্থাপিত না হয়।

তিন বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটার বিষয়টি সকালে যখন ৮টায় শুরু হয়, সবাই প্রত্যাশা থাকে আমি প্রথমে টিকিট পাব। আমি দেখছি সকাল ১১টার দিকে একজন টিকিট কেটেছেন যখন ভিড় কমে গেছে।

তিনি বলেন, এসি আসনের সংখ্যা সীমিত। তার আবার অর্ধেক অনলাইনে। যেহেতু আমাদের আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট। তার তুলনায় মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবে অনেকে হয়তো টিকিট পাবে না।