সামাজিক ন্যায্যতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন

অর্থশাস্ত্রে উন্নয়নের ধারণা ও চর্চায় সামাজিক ন্যায্যতার মতো অত্যন্ত জরুরি বিষয় এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে টেকসই পরিবেশ, সামাজিক ন্যায্যতা, নারীবান্ধব পরিবেশ ও নারী-পুরুষের সমতা, শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ কর্মপরিবেশ এখনো সেরকমভাবে বিবেচিত হচ্ছে না। সুদূর অতীতের কথা বাদ দিলেও, বিগত একশ বছরে বিশ্বে উন্নয়নের ধারণায় ব্যাপক মাত্রার পরিবর্তন এসেছে। আমরা দুইটি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছি পাহাড়সম আত্মত্যাগের মাধ্যমে। ১৯৭১ সালে লন্ডন টাইমস্ পত্রিকা লিখেছিল, ‘যদি রক্ত স্বাধীনতার মূল্য হয়ে থাকে, তাহলে, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ মূল্যে স্বাধীনতা কিনেছে।’ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে রাজনৈতিক অর্থনীতির যে দিকনির্দেশনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন সেপথ থেকে বাংলাদেশকে বিচ্যুত করা হয়েছিল তাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারণায় সাদা-কালোর মতো স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে। বাস্তবিক অর্থে কিছু দেশকে আমরা উন্নত হিসেবে চিহ্নিত করি কতকগুলো দৃষ্টিকোণ থেকে যদিও তাদের অর্থনীতির প্রাথমিক রসদ তারা জুগিয়েছিল লুণ্ঠনের মাধ্যমে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, উত্তর আমেরিকাসহ ¯ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশসমূহ। এসব দেশের মধ্যে অনেক গুণগত পার্থক্য থাকলেও তাদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আয়ের বৈষম্য সত্ত্বেও জনসংখ্যার বিরাট অংশ নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি, বস্ত্র ও বাসস্থানের ন্যূনতম স্তর ও মান তাদের মধ্যে রয়েছে। যদিও কভিডের মতো মহামারী প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় তাদের চিকিৎসা-ব্যবস্থা বেশ হিমশিম খেয়েছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা ছিল শোচনীয় পর্যায়ের। তবে অনুন্নত দেশগুলোর তুলনায় সংখ্যার দিক থেকে উন্নত দেশগুলোতে বেশি সংখ্যক মানুষ চিকিৎসাসেবার আওতায় রয়েছে। এসব দেশের জনগণের অধিকাংশেরই তাদের নিত্যপণ্যের প্রয়োজন মিটিয়েও জীবনের অন্যান্য উপকরণ ভোগের সামর্থ্য রয়েছে। অন্যদিকে, অনুন্নত দেশগুলোর জনগোষ্ঠীর জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করাই খুব কঠিন, কারণ তাদের আয় অপ্রতুল। তাদের খাদ্য, বাসস্থান, যাতায়াতেই তাদের আয়ের সিংহভাগ খরচ হয়ে যায়। অনেক দেশে শিক্ষার প্রসার আগের তুলনায় বাড়াতে সক্ষম হলেও দেশকে পুরোপুরি নিরক্ষরমুক্ত করতে পারছে না। এই দেশগুলোতে বস্তিতে অমানবিক জীবনযাপন করার চিত্র দেখা যায়, স্বল্প আয়ের পরিবারে শিশুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে দেহের বৃদ্ধি সুষম নয়, এমনকি একটি বড় অংশের জনগোষ্ঠী বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগে কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা পায় না। (সূত্র: রিজওয়ানুল ইসলাম (২০১৮): উন্নয়নের অর্থনীতি, ইউপিএল)

রবীন্দ্রনাথ তার জীবনের সিংহভাগ ব্যয় করেছেন ভারতবর্ষে গুণগত শিক্ষা প্রসারের কাজে। অধ্যাপক অমর্ত্য সেন তার ‘হোম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ রবীন্দ্রনাথের এ-সংক্রান্ত ভাবনাকে উদ্ধৃত করেছেন : ‘ভারতমাতার হৃদয়ে দুর্দশার এই পর্বতসম বোঝা চেপে আছে তার মূলে হলো শিক্ষার অভাব।’ অমর্ত্য সেন আরও বলেন : ‘যুক্তিশীলতা ও স্বাধীনতার প্রতি বিশ্বাস রবীন্দ্রনাথের জীবনদর্শনের মূলভিত্তি। বিশেষ করে তিনি জোর দিতেন শিক্ষার গভীরে যুক্তিশীলতা ও স্বাধীনতা এমনভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে যেন সব বিদ্যার্থীর জীবনের একেবারে কেন্দ্রে এ দুটো প্রোথিত থাকে। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য যুক্তিশীলতা ও স্বাধীনতা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদাহরণস্বরূপ, জাপানের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিশ্লেষণে রবীন্দ্রনাথ ভালো মানের স্কুল শিক্ষার বিপুল পরিমাণ গঠনমূলক ভূমিকার কথা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। রবীন্দ্রনাথের অনেক পরে, এই বিশ্লেষণই প্রতিধ্বনিত হয়েছে উন্নয়ন সংক্রান্ত অর্থশাস্ত্রের বিশ্লেষণে। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানও এখন এই বিশ্লেষণ মেনে নিয়েছে। ... এমনকি আজও যদি আমরা রবীন্দ্রনাথের ভারত-বিশ্লেষণে শিক্ষার অপ্রতুলতার বিষয়টির যথার্থতা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করি, তবে কারোরই বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে, কেন রবীন্দ্রনাথ শিক্ষার রূপান্তর করার ক্ষমতার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ভারতের সমাজ পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিক্ষার মৌলিক গুরুত্বের কথা সবচেয়ে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।’ 

আমাদের সমাজে সামাজিক চুক্তির ধারণা ও চর্চা অত্যন্ত দুর্বল। সমকালীন উন্নত দেশগুলোতে সামাজিক চুক্তির ধারণা খুবই প্রভাব বিস্তার করেছে। আমাদের দেশে সমাজ দৃশ্যত খুবই দুর্বল। নইলে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারত না। কেউ বলতে পারেন শহরে সমাজই নেই! কিন্তু সমস্যা হলো গ্রামে সমাজ থাকলেও তাতে সামাজিক ন্যায্যতার ভিত্তি খুবই দুর্বল। সামাজিক চুক্তির অপ্রতুলতায় শহরাঞ্চলে বাজারব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের বাজারব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে চলার সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম অত্যন্ত দুর্বল। অসংখ্য মানুষের স্বার্থপরতা চরিতার্থ করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টাকে, সমাজের বিধিনিষেধ ও আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করে, পরস্পরকে অনিষ্ট করার পরিবর্তে একে অপরকে সম্মান করার চর্চাকে নিশ্চিত করে একটি ন্যায্য সমাজের ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি আমাদের দেশে। এটিকেই আমি বলছি সমাজে ‘সামাজিক চুক্তির অভাব’ কিংবা থাকলেও খুব দুর্বল অবস্থায় আছে। এদেশে অনেক বুদ্ধিজীবী ভাবেন, রবীন্দ্রনাথের চিন্তার সবই বাস্তবায়ন হয়েছে, এখন তারা তাকে কেবল ‘গান ও কবিতা’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান! সব সমাজেই সংকীর্ণ চিন্তাভাবনার লোকজন থাকেন। রবীন্দ্রনাথের গুরুত্ব যত জোরালোভাবে আমাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে, ততই আমরা আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারব। রবীন্দ্রনাথ যে গুণগত শিক্ষার কথা বলেছেন, তা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, আমাদের যাপিত জীবনের গুণগত মান বৃদ্ধি তথা একটি সৌহার্দ্যময় সমাজে উত্তরণেও তা আলোকবর্তিকারূপে পথ দেখায়।

উন্নত দেশগুলোয় তথা ইউরোপ ও আমেরিকায়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পেছনে সামাজিক ন্যায্যতার বড় রকমের ভূমিকাটির কথা আমরা প্রায়শই বিস্মৃত হয়ে যাই। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের শিক্ষার গুণগত অভাবের কথা খুব মনে হয়। আমাদের দেশের বিদ্যাশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্থশাস্ত্র চর্চায় যে ধারা গড়ে উঠেছে, সেখানে সামাজিক ন্যায্যতার আলোচনাকে স্থান দেওয়া হয় না। যদিও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস হলো সামাজিক ন্যায্যতা ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় রক্তক্ষয়ী লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস। অথচ আমাদের বিদ্যায়তনিক পরিসরে আমাদের জাতীয় ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত না করার কারণে সামষ্টিক জীবনের গুণগত রূপান্তর সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার সঙ্গে সমাজের এ বিচ্ছিন্নতা সমাজ ও ব্যক্তি উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ন্যায্যতার চর্চা অত্যন্ত দুর্বল। সমাজের সব সদস্যের প্রতি সমদর্শী আচরণ করে এমন প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশে অপ্রতুল। মানুষের ন্যূনতম প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে সেবা দেয় তাদের সমদর্শী আচরণ সামাজিক ন্যায্যতার পথে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থশাস্ত্রের স্রষ্টা কৌটিল্য বিশ্বাস করতেন যে, রাজনৈতিক সাফল্য ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নির্ভর করে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার ওপর। অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বিষয়টিকে তার নীতি ও ন্যায্যতা  গ্রন্থে ব্যাখ্যা করে বলেন : ‘তিনি [কৌটিল্য] মনে করতেন, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নানা বৈশিষ্ট্য, যেমন নিয়মতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং বিধিনিষেধ, মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে সদাচরণের দিকে চালিত করতে পারে।’ দার্শনিক হব্স, লক্, রুশো, কান্ট, রল্স, কৌটিল্যের চিন্তার ভেতর ব্যাপক পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে সবারই অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, আর তা হলো সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাকে তারা প্রত্যেকেই খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন।         

কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা সামাজিক নীতিশিক্ষার ব্যাপক হৃদয়গ্রাহী প্রসারের দিকটি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাননির্ভর সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে পারি না। সম্রাট অশোক চিন্তাভাবনার দিক থেকে কৌটিল্য তথা প্রতিষ্ঠানবাদী চিন্তাধারার বিরোধী ছিলেন। তিনি মনে করতেন, আত্মসত্তার উপলব্ধি জাগিয়ে তুলে মানুষের আচরণকে উন্নততর করা যায়। রবীন্দ্রনাথও তার গোরা  উপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্র গোরার চেতনার উচ্চতর স্তরের ভ্রমণের ফলে অন্যদের সঙ্গে তার আচরণে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা দেখিয়েছেন। সম্রাট অশোক আজ বেঁচে থাকলে নিউমার্কেটের সংঘর্ষে বিবদমান পক্ষদের হয়তো বলতেন, ‘নির্বুদ্ধিতার পরিণতি হলো অশোভন অচরণ, যার অন্তিম পরিণতি সবার পক্ষেই ভয়ংকর।’ অমর্ত্য সেন বলেন: ‘নৈতিক আচরণের ক্ষেত্র এবং ব্যাপ্তি বিষয়ে অশোকের আশাবাদ হয়তো পুরোপুরি যুক্তিসংগত নয়, কিন্তু কৌটিল্যের ধারণাও কি সম্পূর্ণ নির্ভুল ছিল? তিনি সামাজিক নীতিশিক্ষা দিয়ে মানুষের আচরণে পরিবর্তনের সম্ভাবনায় চূড়ান্ত অবিশ্বাস পোষণ করতেন। সেটাও কি মানবচরিত্রের অভ্রান্ত বিশ্লেষণ? বলা যেতে পারে, অশোক এবং কৌটিল্য উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গিই অসম্পূর্ণ, কিন্তু সামজে ন্যায্যতার প্রশ্নটিকে ধরে এগিয়ে যেতে গেলে উভয় দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’ (নীতি ও ন্যায্যতা, সেন, ২০১৬, পৃ.১০০)

অতিমারী আমাদের দেশসহ আঞ্চলিক দেশসমূহের দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর যৎসামান্য সঞ্চয়কে নিঃশেষ করে ফেলেছে। শ্রম থেকে আয়-নির্ভর জনগোষ্ঠীকে অনেক ভঙ্গুর করে তুলেছে। অন্যদিকে বৃহৎ পুঁজি-নির্ভর ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদ মহামারীর সময়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। অল্প কিছু লোকের ঐশ্বর্যের চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের দুর্দশাগ্রস্ত, বঞ্চিত ও অবদমনের জীবনের দিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে যদি আমরা সমাজকে আরও একটুখানি ভালো করে তুলতে চাই। বেশ কয়েক বছর আগে দার্শনিক টমাস নেগেল একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছিলেন : ‘বাদুড় হলে কেমন লাগে?’ যেখানে তিনি ধ্রুপদী দর্শনের পুরনো প্রশ্নকে এই ভুলে যাওয়া সময়ের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এনেছেন যার কেন্দ্রে রয়েছে মন ও শরীরের দ্বন্দ্ব। অমর্ত্য সেন এ বিষয়ে বলেন : ‘ন্যায্যতার তত্ত্বের চর্চায় একই রকম প্রশ্ন আসতে পারে : মানুষ হলে কেমন লাগবে?’ আমরা কেমন জীব আসলে? বর্তমানে আমরা সহানুভূতি জানাতে অপারগ, কষ্ট বা লাঞ্ছনায় বিচলিত হই না, গত কয়েকদিনে পত্রিকায় নিউমার্কেট সংঘর্ষে নিহতের স্ত্রী, স্বজনদের কান্না, মানুষের দুর্বিষহ অবস্থা এসব কোনোকিছু নিয়েই আমাদের মাথাব্যথা নেই? আমরা তো যুক্তিতর্কে অক্ষম নই, বিভিন্ন সময়ে তো আমরা নানা সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছি, আমাদের মধ্যে তো এই সামর্থ্যগুলো রয়েছে। আমাদের সহানুভূতি, যুক্তিপ্রয়োগ ও নানা ধরনের উদ্যমী মনোভাব ও চর্চা আমাদের মানসিক সক্ষমতার প্রমাণ। এখন দরকার এগুলোকে কাজে লাগিয়ে সমাজের ক্ষতগুলোকে সারিয়ে তোলার। ‘বিচ্ছিন্ন জীবনের অনিবার্যতায় নিজেকে সঁপে দেওয়া’ কোনো প্রয়োজনীয় কাজ হতে পারে না।

লেখক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সভাপতি, বাংলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন

ronieleo@gmail.com