সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) নির্বাচনে সম্পাদক পদে ভোট পুনর্গণনা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল, হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের কনফারেন্স হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত ৯টা) ভোট পুনর্গণনা চলছিল। তবে ভোট পুনর্গণনার এ উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
উচ্চ আদালতে এক বছরের জন্য (২০২২- ২০২৩ মেয়াদ) সভাপতি ও সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪ পদে আইনজীবী প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ১৫ ও ১৬ মার্চ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ মার্চ রাতে ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণার মুহূর্তে সম্পাদক পদে ভোট পুনর্গণনা করতে সরকারপন্থী আইনজীবীরা দাবি তোলেন।
এ নিয়ে হইচই হট্টগোলের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক এ ওয়াই মসিউজ্জামানের পদত্যাগে ফলাফল ঘোষণা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। প্রায় দেড় মাসেও এ জটিলতা নিরসন হয়নি। ফলাফলও ঘোষণা হয়নি।
ওই নির্বাচনে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকদের এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ওয়াই মসিউজ্জামানকে তার নির্বাচনী পরবর্তী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। তবে সরকারপন্থী আইনজীবীরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে অনড় থাকেন।
অন্যদিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তাদের সম্পাদক প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার দাবি তোলে।
নির্বাচনে সম্পাদক পদে বিএনপিপন্থীদের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সমিতির বর্তমান (২০২১- ২০২২) সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ পদে সরকারপন্থীদের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল সমিতির বর্তমান মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির আওয়ামীপন্থীদের এক সভা শেষে সমিতির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. অজিউল্লাহর নেতৃত্বে ফলাফল ঘোষণা সংক্রান্ত একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়।
মঙ্গলবার মো. অজিউল্লাহ বুধবার (২৭ এপ্রিল) নির্বাচন সংক্রান্ত বাকি কাজ সম্পন্ন করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার বেলা ৩টার দিকে অজিউল্লাহ নেতৃত্বে সাব-কমিটি সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স কক্ষে (যেখানে ভোট বাক্স রক্ষিত) প্রবেশ করে ভোট পুনর্গণনার উদ্যোগ নেন। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে সরকারপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথমে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা অভিযোগ করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কনফারেন্স কক্ষের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেছেন। অন্যদিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা অভিযোগ করেন সরকারপন্থী আইনজীবীরা কক্ষের তালা ভেঙে জোর করে ভেতরে ঢুকে ভোট গণনার করেন।
নির্বাচনে সরকারপন্থীদের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাব-কমিটি যেটা হয়েছে তা আইনসংগতভাবে হয়েছে। বার তো এভাবে বসে থাকবে না। সাবকমিটি অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কক্ষ ভাঙচুর করেছেন। সবার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করব।’
রুহুল কুদ্দুস কাজল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে কমিটির মাধ্যমে ভোট গণনা হচ্ছে সাংবিধানিকভাবে এর কোনো বৈধতা নেই। তারা নিজেদের মতো করে ফলাফল ঘোষণা করলে এর কোনো আইনগত বৈধতা থাকবে না। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা এটা মেনে নেবে না। সময় সুযোগ পেলে তারা প্রতিবাদ করবে।’
তিনি বলেন, ‘এখানে হামলা ভাঙচুর কে করতে যাবেন? যারা তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যালট পেপার তছনছ করছে, তারা ছাড়া অন্য কারওর কি দায় পড়ে গেছে যে এখানে ভাঙচুর করবে।’