জনপ্রিয় অভিনেতা আজম খান এই সময়ে ব্যস্ত রয়েছেন ঈদের কাজ নিয়ে। সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।
ঈদের কাজগুলো নিয়ে জানতে চাই…
নাটক, টেলিফিল্ম সবগুলোতেই বাবার চরিত্রে কাজ করেছি। বছরের শুরু থেকেই কাজ করছি। এবারের রোজায় এসে সংখ্যাটা বেড়েছে। গত দুই বছরের মধ্যে এই বছর একটু বেশি কাজ হচ্ছে। যতটুকু জানি, এই ঈদে ১৫টির মতো কাজ প্রচারিত হতে পারে।
আপনি বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন। ইদানীং বেশির ভাগ নাটক-টেলিফিল্মেই নায়ক-নায়িকার বাইরে তেমন কোনো চরিত্র দেখা যায় না। এই বিষয়টা জ্যেষ্ঠ অভিনেতাদের ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কিনা?
আমি বিষয়টাকে নেতিবাচকভাবে দেখছি না। আমাদের দেশটা ফ্যামিলি বেইজড। সবারই পরিবার থাকে। তো পরিবার যেহেতু আছে, পরিবারের বাবা মার কথা আসবেই। ভাই বোনের কথা আসবেই। এটা ঠিক মাঝখানে পরিবার কেন্দ্রিক গল্পগুলো কমে গিয়েছিল। এখন আবার সবার রিয়ালাইজড হচ্ছে। আবারও পরিবার কেন্দ্রিক গল্পগুলো ফিরে আসছে। কিছুটা চ্যালেঞ্জও আছে। বাজেটের চ্যালেঞ্জ। সে কারণে দুই দিনেই কাজ শেষ করতে হয়। সে জন্য হয়তো কখনো কম ক্যারেক্টার নিয়ে কাজ করা হয়। এটা নিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করি না।
টেলিভিশনের পর ইউটিউব, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আসায় নাটক টেলিফিল্মের সংখ্যা বাড়ছে। অভিযোগ আছে কাজের মান কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনিও কী একমত?
আসলে মান কমে যাচ্ছে না বরং অনেকে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন যারা আসছেন, অনেকে ডিরেকশন দিচ্ছেন অনেকে অভিনয় করছেন, অনেকে কস্টিউম ডিজাইন করছেন বা আর্ট ডিরেকশন দিচ্ছেন-সবাই কাজ করতে পারছে। একটা সময় শুধু বিটিভিকে কেন্দ্র করে কাজ হতো । এরপর অনেকগুলো স্যাটেলাইট চ্যানেল এলো, এখন ইউটিউব চ্যানেল হয়েছে। অনেকগুলো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হয়েছে। এখন প্রচুর পরিমাণে নাটক টেলিফিল্ম নির্মাণ হচ্ছে। এতে করে দর্শকের পছন্দ দেখার অপশন বাড়ছে। আর মানের যে ব্যাপারটা বলছেন সে বিষয়ে বলব, এখন সব জায়গা প্রতিযোগিতামূলক হয়ে গেছে। ভালো কনটেন্ট বা নির্মাণ যদি না হয় সেটা কিন্তু দেখবে না দর্শক। টেলিভিশনে যেমন টিআরপি আছে তেমনি অনলাইনে ভিউয়ার্স কাউন্টের ব্যাপার আছে। ফলে দর্শক না দেখলে টিআরপিও বাড়বে না ভিউও বাড়বে না। ফলে ভালো কাজটাই সবাইকে ডেলিভার্ড করতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদী অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে এখন, যেগুলো মানুষ মনে রাখবে।
ব্যাংকিং পেশার পাশাপাশি অভিনয় করছেন। দুটো কীভাবে সামলান?
সমন্বয় বা সামলানোর ব্যাপারটা আসলে মূলত টাইম ম্যানেজমেন্ট। আমার মূল পেশায় ৮ ঘণ্টা দেওয়ার পর যে সময় থাকে বা ছুটির দিন থাকে সেই সময়টায় শুটিং করি। যখন কোনো বড় শিডিউল থাকে বা বাইরে যেতে হয় তখন ছুটি নিতে হয়। এটা আসলে ম্যানেজ হয়ে যায়। মূলত নিজের যে সময়টা থাকে সেই সময়টাতেই কাজ করি।
২০১৫ সালে অভিনয় শুরু করেন আপনি। ৭ বছরের ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি কতটুকু সন্তুষ্ট? কোনো অসন্তুষ্টি কাজ করে কিনা?
দেরিতে অভিনয় করা শুরু করলেও আমি খুবই হ্যাপি। আমি এই সময়ের মধ্যেই বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। আমি, নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপন সব মাধ্যমেই কাজ করেছি। এই জায়গা থেকে আমি সৌভাগ্যবান যে অনেকগুলো সেক্টরে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কোনো অসন্তুষ্টি কাজ করে না। একটা জিনিস মনে হয়- আরও আগে যদি শুরু করতে পারতাম। আরও আগে শুরু করলে তখন প্রেক্ষাপটটা হয়তো ভিন্ন হতে পারত। এটা অবশ্য আক্ষেপ না, এটা বাস্তবতা।