শেখ জামালের প্রাণের সেনাবাহিনী আজ বিশ্বসভায় সমাদৃত: পরশ

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেনা অফিসারদেরকেও সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। জাতির জনকের দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামালের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণের অযুত ভালোবাসা, গর্ব ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা নিয়ে পেশাগতভাবে দক্ষ ও চৌকস বাহিনী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।’

শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আদর্শ বিদ্যানিকেতনে আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র শহীদ লেফটেন্যান্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামালের ৬৯তম জন্মদিন উপলক্ষে এসব কথা বলেন শেখ ফজলে শামস্ পরশ। এ সময় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানতো সরাসরি মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। শুধু তাই নয়, শেখ জামালসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের রক্তে রঞ্জিত এই জিয়াউর রহমানের হাত। সুতরাং জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবি আজকের প্রজন্মের সময়ের দাবি। যেটা খুব শিগগিরই এদেশের মাটিতে আমরা দেখব ইনশাআল্লাহ। আওয়ামী যুবলীগের পক্ষ থেকে এই দাবি ব্যক্ত করছি।’

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ‘শেখ জামাল মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একজন সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত সেনা অফিসার। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শেখ জামালও গৃহবন্দি ছিলেন। সেখান থেকে পালিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের আগস্টের একদিন সকালে তার মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব আবিষ্কার করেন ছেলে ঘরে নেই। রাজনৈতিক দূরদর্শী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব তার সন্তানকে অপহরণের অভিযোগ তুললেন দখলদার পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে। সারাবিশ্বে আলোড়ন, বিদেশি পত্রপত্রিকায় ছাপা হলো পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবের ছেলেকে গুম করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন শেখ জামালকে সেনা অফিসার হিসেবে গড়ে তুলতে। শহীদ শেখ জামাল পিতার স্বপ্ন অনুযায়ী একজন দেশপ্রেমিক চৌকস মেধাবী সেনা অফিসার হয়ে উঠেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লং কোর্স-এর প্রথম ব্যাচের কমিশন্ড অফিসার। ১৯৭৪ সালে শেখ জামাল মার্শাল টিটর আমন্ত্রণে যুগোস্লাভিয়ার মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেন। এরপর ব্রিটেনের বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সামরিক একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করেন।’

সঞ্চালকের বক্তব্যে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘আমরা এসেছি আমাদের নেত্রী, আপনাদের নেত্রী, গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের নেত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে তার ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়ার জন্য।’

তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে নিয়ে জামাত-বিএনপি নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। আপনারা সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে নৌকায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনবেন বলে বিশ্বাস করি।’

যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীর পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন-যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, মো. নবী নেওয়াজ, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মুহা. বদিউল আলম, মো. রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মো. জহির উদ্দিন খসরু, অ্যাড. ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ জহুরুল ইসলাম মিল্টন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মো. শামছুল আলম অনিক, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. হেমায়েত উদ্দিন মোল্লা, উপ-ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো. গোলাম কিবরিয়া শামীম, সহসম্পাদক মো. আবদুর রহমান জীবন, মো. রাশেদুল ইসলাম সাফিন, মো. আবু রায়হান রুবেল, মো. মনিরুজ্জামান পিন্টু, মো. মনিরুল ইসলাম আকাশ, কার্যনির্বাহী সদস্য কায়কোবাদ ওসমানী, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, মো. হুমায়ুন কবির, রাজু আহমেদ ভিপি মিরান, ইঞ্জি. মো. মোক্তার চৌধুরী কামাল, অ্যাড. মো. শওকত হায়াত, ইঞ্জি. আবু সাইদ মো. হিরো, মো. মুজিবুর রহমান মুজিব, মো. বজলুল করিম মীর, অ্যাড. মো. সাজেদুর রহমান চৌধুরী বিপ্লবসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতারা।