না.গঞ্জ বিএনপির সদস্যসচিবকে ছুরিকাঘাত: এমপিপুত্রকে খুঁজছে পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতা অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে’ ছুরিকাঘাত করার ঘটনায় সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের ছোট ছেলে জিএম কাউসার ওরফে রিফাতকে খুঁজছে পুলিশ।

সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার রাতে পল্টন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়েও তাকে আটক করতে পারেননি।

সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে দাবি করলেও তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়।

জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল সোমবার রাত পৌনে আটটায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের দারুস সালাম টাওয়ারের সপ্তম তলার নিজ অফিস থেকে নামার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বদরুন্নাহার বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন।

ঘটনায় আটক হওয়া বিএনপি কর্মী ফতুল্লার জুয়েল মীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি দিদার আলম ওরফে সাগর সিদ্দিকীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মামলায় তিন দিনের রিমান্ড নেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম।

জিজ্ঞাসাবাদে মামুন মাহমুদকে হত্যার পরিকল্পনায় গিয়াস উদ্দিনের ছেলে রিফাতের নাম উঠে আসে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত সংশ্লিষ্ট পল্টন থানার একটি সূত্র জানায়, ঘটনাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সংগঠিত হয়েছে। ঘটনার মাস্টার মাইন্ড রিফাত। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রিফাতের হয়ে খুনি ভাড়া করেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফতুল্লার বাসিন্দা মো. হৃদয়। হামলাকারী মো. জুয়েল মীরকে মামুন মাহমুদের অফিস ও ছবি দেখিয়ে দেয় দিদার আলম ওরফে সাগর সিদ্দিকী। ঘটনার দিন দুপুর থেকে ঘটনাস্থলের অদূরে মুক্তাঙ্গনে নিজের মাইক্রোবাসে অবস্থান করছিলেন নাসিকের দুই নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারী পল্টু কর্মকার। এদিকে ঘটনার পর থেকে কাউন্সিলর ইকবাল ও রিফাতকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি জানান, এটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। যেহেতু মামলা হয়েছে তাই তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে কিছু বলতে পারব না।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পল্টন থানা-পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

ঘটনায় নিজের ছেলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ফোনে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।