নীলফামারীর ঈদগা মাঠে ঈদুল ফিতরের জামাতে মুসল্লির ঢল

করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছর ঈদগা মাঠে ঈদের নামাজ হয়নি। এবার ঈদগা মাঠে নামাজ আদায় করতে পেরে নীলফামারীবাসী আনন্দে আত্মহারা।

নীলফামারীর কেন্দ্রীয় ঈদগায়ে প্রায় ৫০ হাজার মুসল্লি পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেন নীলফামারী বড় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা খন্দকার মো. আশরাফুল হক নুরী।

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজের পর বিশেষ খুতবা পড়ানো হয়। খুতবা শেষে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় ঈদের প্রধান জামাত। জামাত শেষে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুসল্লিরা।

এর আগে মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন ও পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ।

সকাল থেকে মেঘলা আকাশ থাকলেও ঈদগাহে জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে শুনে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা জায়নামাজ হাতে এখানে আসতে থাকেন।

নীলফামারী পৌরসভার আয়োজনে ঈদগাহ ময়দানে উপরে শামিয়ানা ও নামাজ আদায়ের জন্য নিচে মাদুর বিছানো হয়। ঈদগাহের প্রবেশ মুখে পুলিশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এর আগে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নীলফামারী পুলিশ লাইন ঈদগাহ ময়দানে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া সার্কিট হাউজ ও বাড়াইপাড়া নতুন জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠ ৮টা ৪৫, জোরদরগা ঈদগাহ ময়দান, কুখাপাড়া ধনিপাড়া, কলেজ স্টেশন, মুন্সিপাড়া আহলে হাসিছ মসজিদ সকাল ৯টায় ও গাছবাড়ী ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জেলার ৬ উপজেলায় স্ব-স্ব ঈদগা মাঠে সকাল ৯টায় ঈদের নামাজ করে মুসল্লিরা।

এ ছাড়া জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি রেলবন্দরের শব্দীগঞ্জ ঈদগা মাঠে জেলার সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল সাড়ে ১০টায়।

এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মো. তছলিম উদ্দিন। শব্দিগঞ্জ এলাকার এই ময়দানে ডোমার উপজেলার ৫ ইউনিয়ন এবং পাশ^বর্তী পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশি ইউনিয়নের ১৮টি জামাতসহ ৭৫টি জামাতের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ময়দান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৭১২সালে এই ময়দানে ঈদের নামাজ শুরু হয়। এখন ৫১ বিঘা জমির উপর ময়দানটি সম্প্রসারণ ঘটেছে। ময়দানের ৭৬টি কাতারে নামাজে অংশগ্রহণ করেন মুসল্লিরা। প্রতি কাতারে অংশ নিতে পারেন প্রায় পাঁচ’শ জন।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহরিয়ার ইসলাম রিয়াদ বলেন, ঈদগাঁহ ময়দানে দুই বছর নামাজ আদায় করতে পারিনি। ময়দানে নামাজ আদায় করার মজা আলাদা। করোনা কাটিয়ে এবার শব্দিগঞ্জ ঈদগায়ে ঈদের নামাজ হলো এ জন্য এলাকার মানুষ খুবই খুশি।

শব্দিগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মাজেদুল ইসলাম জানান, এখানে নামাজ আদায় করতে দূর-দুরান্ত থেকে মুসল্লিরা আসেন। বিভিন্ন জেলা থেকেও আসেন। এর চেয়ে বড় ঈদ জামাত নীলফামারী জেলায় আর হয় না।