শরীয়তপুরে ঈদের দিন দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

শরীয়তপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২০ জন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের মজুমদার কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম কুদ্দুস ব্যাপারী (৭৫)। তিনি একই গ্রামের রহম আলী ব্যাপারীর ছেলে।

গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানায়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আহতরা হলেন- জয়নাল ব্যাপারী (৭৫), সৈয়দ সরদার (৪০), মাহবুব ব্যাপারী (১৯), আনিস উদ্দিন মাদবর (৬০), সাইদ সরদার (৪৫), কুদ্দুস ব্যাপারী (৮০), কাজু ব্যাপারী (২২), মাহবুব আলম (৩৩), মান্নান ব্যাপারী (৪০), আমজাদ হোসেন (৩০), নুপুর আক্তার (১৭), খাদেজা (৬০), বাদল ব্যাপারী (৪০), এনামুল সরদার (৩০), আব্দুল হক সরদার (৬০), আউয়াল সরদার (৩৬), রিনা বেগম (৪০), সুমন সরদার (৩৮), মনোয়ারা বেগম (৪৫), সাঈদ মুন্সী (৪০)। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, পূর্ব শত্রুতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম হাওলাদারের সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদার কান্দি ছালাম ও হারুনের গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ টেঁটা, রামদা, বল্লম, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে কুদ্দুস ব্যাপারীকে টেঁটা দিয়ে গলায় আঘাত করলে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম হাওলাদার বলেন, ঈদের নামাজ পরে আমার লোকজন মসজিদ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারুন হাওলাদারের লোকজন আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। ওরা কুদ্দুস ব্যাপারীকে টেঁটা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

আমাদের বেশ কয়েকজনকে আহতও করেছে। হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। 

এদিকে, চিতলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আমাদের বেশ কয়েকজন লোক আহত হয়েছে। কুদ্দুস ব্যাপারীর ওপর আমার সমর্থকেরা হামলা করেনি।

শরীয়তপুর সদরের পালং থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, দু’টি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সকালে চিতলিয়া ইউনিয়নের মজুমদার কান্দি এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ মসজিদে ঈদের নামাজ শেষে বের হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এ ছাড়া এর আগেও উভয় পক্ষের একাধিক মামলাও রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।