সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজারের খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।
শনিবার (৭ মে) দুপুরে সরেজমিনে প্রকল্পটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। সেনাপ্রধান খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে পৌঁছালে প্রকল্পের সার্বিক চিত্র তোলে ধরেন ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদুর রহমান।
এ সময় সেনাপ্রধান বলেন, ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৩০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এ সময় সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল ফখরুল আহসানসহ উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিমান বন্দর সম্প্রসারণের কারণে শহরের সমিতি পাড়া ও কুতুবদিয়া এলাকায় আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩শ’ ৩৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা। যেখানে স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে জলবায়ু উদ্বাস্তু ৩ হাজার ৮শ’ ৮টি পরিবার। প্রকল্পে থাকবে ১৩৯টি পাঁচতলা ভবন, যার মধ্যে তৈরি হওয়া ২০টি ভবনে ৬০০ পরিবারকে ২০২০ সালে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি করে ফ্ল্যাট। বাকি ১১৯টি ভবন নির্মাণের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করলেন সেনা প্রধান।
খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর একটি অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প। জলবায়ু উদ্বাস্তু ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কারণে ভূমিহীন ৩৮০৮টি পরিবারের পুনর্বাসনসহ এই জনগোষ্ঠীর দারিদ্রতা হ্রাসের লক্ষ্যে আয়ের পথ উন্মুক্ত করা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে পাইলিং ফাউন্ডেশন দিয়ে ১৩৯টি ৫ তলা ভবন নির্মাণ অন্যতম। এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় ধর্মীয় উপাসনালয়, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, খেলার মাঠ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থাসহ বিবিধ সুবিধাদি নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কর্তৃক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।