রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে গত দুই দিনের তুলনায় ঈদ পালন শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ আগের মতোই রয়েছে।
সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাট ও এর আশপাশের সড়কে দেখা গেছে যানবাহনে দীর্ঘ সারি। এ সকল যানবাহনের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যাই ছিল বেশি। তবে গত দিনের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কিছুটা কম দেখা গেছে।
সরেজমিন দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘাটের জিরো পয়েন্ট হতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কে যানবাহন ঘাট পারের অপেক্ষায় রয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা ছিল অনেক। তবে তুলনামূলক গত ২ দিনের থেকে কিছুটা কম।
এছাড়াও অনেক বাসের যাত্রীরা সময় কালক্ষেপণ না করে বাস থেকে রোদ মাথায় নিয়ে ইজিবাইক, মাহেন্দ্র ও অনেকেই হেঁটেই দৌলতদিয়া ঘাটে যেতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে দৌলতদিয়া ঘাট অভিমুখে রওনা হওয়া অনেক বাস সড়কের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এসব জটলা নিরসনে পুলিশকে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালি ঢাকাগামী এক যাত্রী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ৪ ঘণ্টা হয়ে গেছে ঘাটে এসে বসে আছি, আর কত ঘণ্টা লাগে কে জানে। বাসের লেনে অনেক ট্রাক ঢুকে আছে আর এতে করে আরও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, ট্রাক আর বাসের লেন আলাদা করে দিলে এই জট সৃষ্টি হত না।
তরমুজ বহনকারী এক ট্রাক চালক জানান, পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক বাসের সঙ্গে পার করানোর কথা থাকলেও তা হচ্ছে না, গত দুই দিন তেমনভাবে কাঁচামালের ট্রাক পারাপার করানো হয়নি আজকেও একই অবস্থা। গত রাত থেকে আটকে আছি তরমুজ দিয়ে পানি বের হয়ে যাচ্ছে। এত টাকার তরমুজ রাস্তায় নষ্ট হয়ে গেলে মালিকের মাথায় হাত।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা বন্দরের উপ-মহাব্যবস্থাপক শাহ খালেদ নেওয়াজ জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপটা বেশি পড়েছে। ঈদের ছুটির পর বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চাপ এক সঙ্গে পড়েছিল। তবে আজ মোটরসাইকেল আর ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমেছে। আস্তে আস্তে ঘাটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আজ দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে ২১টি ফেরি চলছে।