কুমিল্লার চান্দিনায় একই স্থানে এলডিপির ঈদ পুনর্মিলনী এবং ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ডা. রেদোয়ান আহমেদকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে উপজেলা সদরের রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এ সংঘর্ষ হয়। এতে দুই ছাত্রলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় চান্দিনা উপজেলা সদরে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগে এলডিপির মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদকে আটকের পর জেলা গোয়েন্দা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেলে চান্দিনা উপজেলা সদরের রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ক্যাম্পাস-২ মমতাজ আহমেদ ভবনের মিলনায়তনে এলডিপির ঈদ পুনর্মিলনী এবং একই স্থানে ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ যৌথ কর্মিসভার আয়োজন করে। একই স্থানে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে ওই কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিকেলে এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে গেলে ছাত্রলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মীরা তাকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে দুই ছাত্রলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হন।
তারা জানান, পরে আত্মরক্ষার্থে রেদোয়ান আহমেদ চান্দিনা থানা আশ্রয় নেন। এ সময় উত্তেজিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা চান্দিনা থানার প্রধান ফটক ঘেরাও এবং বিক্ষোভ করে। পরে দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফয়েজ ইকবাল রেদোয়ান আহমেদকে আটক করা হয়েছে মর্মে ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সংঘর্ষে ঘটনায় আহতরা হলেন- চান্দিনা পৌরসভার রূপনগর এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান জনি সরকার (২৮)। তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ কর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অপরজন হলেন চান্দিয়ারা গ্রামের নাজমুল হোসেন নাঈম (২৮)। তিনি বরকইট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী। আহত দুজনকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চান্দিনা পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ক্যাম্পাস-২ মমতাজ আহমেদ ভবনের সামনে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা আগে থেকেই অবস্থান করছিল। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসের সামনে আসার পর কলেজ গেটে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা তার গাড়ি থামান। কিছুক্ষণ পর রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যাওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা ওই গাড়িতে তরমুজ দিয়ে ঢিল মারে। এ সময় রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি থেকে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সামিরুল খন্দকার রবি জানান, চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ছাত্রলীগ ঈদের আগে থেকেই (৯ মে) ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করতে প্রস্তুতি নেয়। এরই মধ্যে পৌর এলডিপিও একই দিন একই স্থানে ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করে। সোমবার দুপুর থেকে ছাত্রলীগের আয়োজনে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা যখন মমতাজ আহমেদ ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন, তখন রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি নিয়ে ওই ক্যাম্পাসের সামনে এসে গাড়ি থেকে দুটি গুলি করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। রেদোয়ান আহমেদের গুলিতে জনি ও নাজমুল গুলিবিদ্ধ হন। তাদের চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী আখলাকুর রহমান জুয়েল জানান, রেদোয়ান আহমেদ রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিকভাবে গুলি চালান।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ জানান, আমাদের পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম ছিল। আমাকে প্রধান অতিথি করে চিঠির মাধ্যমে পৌর এলডিপি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরই মধ্যে আমাদের প্রধান ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে প্রোগ্রাম করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। আমরা ক্যাম্পাস-২ মমতাজ আহমেদ ভবনে পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম করার কথা। দুপুরে আমি ক্যাম্পাস-২ এর সামনে গেলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের লোকজন আমার গাড়িতে হামলা করে। আমি আত্মরক্ষার্থে আমার লাইসেন্স করার শটগান দিয়ে গুলি চালাই। কার গায়ে গুলি লেগেছে আমি বলতে পারব না। পরে আমি থানায় এসে আশ্রয় নেই।
এ ব্যাপারে কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মো. ফয়েজ ইকবাল জানান, পাবলিক রোষানলে রেদোয়ান আহমেদ থানায় আশ্রয় নিতে আসলে আমরা তাকে আটকের পর আটক করি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।