সরকারি খরচে ৩০ প্রতিনিধিকে হজে পাঠাতে চায় সংসদীয় কমিটি

ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ৩ জন করে প্রতিনিধিকে রাষ্ট্রীয় খরচে পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠাতে চান। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কমিটি ধর্ম মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ থেকে এ বছর আগের তুলনায় কমসংখ্যক মানুষ হজে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রী নেওয়ার সুযোগও কম। প্রত্যেক সদস্যকে দুজন প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য ১০ জন। প্রত্যেকের ৩ জন প্রতিনিধিকে হজে পাঠাতে হলে কমিটির সদস্যদের সুপারিশে মোট ৩০ জনকে হজে পাঠাতে হবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে জনপ্রতি কমপক্ষে ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা খরচ হবে। এতে প্রায় ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা থেকে ১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ হবে।

এর আগে ২০১৯ সালে সংসদীয় কমিটির প্রত্যেক সদস্যের সুপারিশে ৫ জন করে সরকারি খরচে হজে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২ বছর বাংলাদেশ থেকে কেউ হজে যাওয়ার সুযোগ পাননি।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন পবিত্র হজ পালনে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৪ হাজার জন।

বৈঠক শেষে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রুহুল আমীন মাদানী বলেন, এ বছর আগের চেয়ে কম মানুষ হজে যাবেন। মন্ত্রী বলেছেন, সংসদীয় কমিটির সদস্যরা ২ জন করে প্রতিনিধি পাঠাতে পারবেন। তবে কমিটির সদস্যরা ৩ জন করে পাঠানোর সুযোগ দিতে বলেছেন। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।

সংসদীয় কমিটির সদস্যরা কেন সরকারি খরচে তাদের প্রতিনিধিদের হজে পাঠাবেন জানতে চাইলে রুহুল আমীন মাদানী বলেন, এটি আগে থেকেই হয়ে আসছে। যারা ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য তাদের ওপর নির্বাচনী এলাকার মানুষের দাবি থাকে হজে পাঠানোর। এই কমিটির সভাপতি হওয়ায় তার কাছে অনেকেই সরকারি খরচে হজে যাওয়ার দাবি নিয়ে আসছেন।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে আলেম নামধারী মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে আসন্ন হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে লক্ষ রাখা, সারা দেশে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদগুলো বর্তমান সরকারের মেয়াদে দ্রুত শেষ করা, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের বিমানভাড়া সহনীয় পর্যায়ে আনার এবং সারা দেশের ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো জাতীয়করণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ বিষয় ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলেম নামধারী মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে হজের কাজে সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে লক্ষ রাখা হবে।

কমিটির সভাপতি রুহুল আমীন মাদানীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, শওকত হাচানুর রহমান, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, জিন্নাতুল বাকিয়া, তাহমিনা বেগম ও রত্না আহমেদ অংশ নেন।